স্তন ও যোনি পরীক্ষা করার নামে যৌন হেনস্থা, লন্ডনে ভারতীয় চিকিৎসকের ঠিকানা এখন শ্রীঘর

আপডেট: ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
0

স্তন ও যোনি পরীক্ষা করার নামে যৌন হেনস্থা, লন্ডনে ভারতীয় চিকিৎসকের ঠিকানা এখন শ্রীঘর

দিনের পর দিন মহিলা রোগীদের নানাভাবে ভ্রান্ত ধারণা দিতেন ব্রিটেনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক। উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের বুক বা স্তন এবং ভ্যাজাইনাল অংশ বা যোনি পর্যবেক্ষণ করা। মণীশ শাহ নামের ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত ক্যান্সার সম্পর্কে প্রথমে মহিলাদের ভয় পাইয়ে দিতেন তিনি।
দিতেন নানা ভুল তথ্য। এমনভাবে রোগীদের বোঝাতেন যাতে মনে হয় এই রোগ সারতে সময় লাগবে দীর্ঘদিন।

আর প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে তবেই মিলবে সুরাহা। অবশেষে যৌন হেনস্থার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ওই চিকিৎসক।
মঙ্গলবার লন্ডলের ওল্ড বেইলি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার আদালতে আইনজীবী কেট বেক্স বলেন, ‘‌ভয় এমন একটা জিনিস যেটা দিয়ে খুব সহজেই কাউকে দুর্বল করে দেওয়া যায়। আর যদি রোগ সংক্রান্ত ভয় দেখানো যায় তাহলে তো কথাই নেই। ঠিক এই ভয়কেই নিজের ব্রহ্মাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই চিকিৎসক।’‌

কেটের কথায় নিজের ক্ষমতা এবং পদের চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছেন মণীশ। মহিলা রোগীদের ক্রমাগত ভয় দেখিয়েছেন।
বুঝিয়েছেন যে তাঁদের বুক, স্তন এবং ভ্যাজাইনাল অংশ পরীক্ষা করা রোগ নিরাময়ের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আদতে এসবের কোনও প্রয়োজন ছিলই না।
বাস্তবে দিনের পর দিন মহিলা রোগীদের যৌন নিগ্রহ করতেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক।

২০০৯ সালের মে মাস থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৬ জন রোগীকে যৌন হেনস্থা করেছেন এই চিকিৎসক। তাদের মধ্যে কারও বয়স মাত্র ১১ বছর। আদালত জানিয়েছে এই ৬ জন রোগী ছাড়াও আরও ১৭ জন মহিলার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন মণীশ শাহ। সব মিলিয়ে ভারতীয় চিকিৎসকের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন মোট ২৩ জন মহিলা।

২০১৩ সালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই লাইসেন্স বাতিল করা হয় মণীশ শাহের।
আগামী ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যদিও গোটা ঘটনাই অস্বীকার করেছেন মণীশ এবং তাঁর আইনজীবী।
বরং মণীশের দাবি রোগীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন তিনি। তাই যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করতেন। কোনও যৌন নিগ্রহ বা অশালীন আচরণ করেননি।

LEAVE A REPLY