হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা শফি ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরন : বৃদ্ধ পিতাকে ব্যবহার করছেন আনাস মাদানী !!

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৮

হাটহাজারী সংবাদদাতা: হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে তার নিজের পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শত শত প্রচারপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে।
গত (১৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় মাদ্রাসার প্রধান মসজিদে জামাত চলাকালীন সময়ে মসজিদের মেহরাব বরাবর ছাদের ফাঁকা জায়গা দিয়ে উপর তলা কিছু প্রচারপত্র অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ছেড়ে দেয়, ফ্যানের বাতাসে তখন প্রচারপত্রসমূহ নামাজরত মুসল্লীদের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।


নামায শেষে ছাত্ররা যখন হোস্টেলের রুমে ফিরছিল, তখন দেখা যায় একই ধরনের প্রচারপত্র বিভিন্ন আবাসিক হোস্টেলের সিঁড়ি ঘরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। ছাত্রদের আবাসিক কক্ষের জানালার ভেতর দিকেও একই রকম প্রচারপত্র দেখা যায়। খবর নিউএজ’র।

প্রচারপত্রসমূহে লেখা ছিল- “হে মুমিনগন! তোমরা ইহুদি খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধু রুপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় আল্লাহ জালেমদেরকে হেদায়েত দেন না। (সুরা : মায়েদা, ৫১)”

“হে সত্য অন্বেষণকারী পথিক! ইতিপূর্বে যাদেরকে ইসলামের প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে নাস্তিক মুতরাদ ও ইসলামের শত্রু বলে সম্বোধন করা হত, আজ তাদেরকেই কেন বন্ধুরুপে গ্রহন করা হচ্ছে? প্রতিটি আসরে তাদের জন্যই কেন দোয়া করা হচ্ছে? যারা শত মুমিনের রক্ত বিক্রি করে উদ্ধার করেছে স্বার্থ ও অর্থ, আজ তারাই কেন ইসলামি নেতৃত্বের স্থানে অধিষ্ঠ?”

“বার্ধক্যে উপনীত আপন পিতাকে ব্যবহার করে, অসহায় মজলুমের পাসপোর্ট আটকে রেখে, ইলম পিপাসু তালেবে ইলেমের আমানতকে উপেক্ষা করে, যোগ্য স্থানে অযোগ্য সমাসীন হয়ে, তাগুতী শক্তির দালালী করে যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, আজ তাদেরই মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”

প্রচারপত্রের শেষ প্যারায় ছিল- “হে উম্মাহর জাগ্রত সৈনিক! এখনও কি সময় হয়নি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার ও স্ব-স্থান থেকে পদচ্যুত করার, আর কত দিন সয়ে যাবে? জাগ্রত হও….. রুখে দাড়াও…. ও আল্লাহর দ্বীনকে বাঁচাও…..।”

হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম কক্সবাজারী নিউএজ পত্রিকাকে বলেন, ‘ফজরের নামাজের সময় কিছু প্রচারপত্র মসজিদে ও সিঁড়িতে কে বা কারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়। এর সাথে কারা জড়িত আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সোমবার মাগরিবের নামায শেষে দারুল হাদীস মিলনায়তনে মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও অন্যান্য সকল শিক্ষকের উপস্থিতিতে ছাত্রদেরকে জমায়েত করা হয়। বৈঠকে শিক্ষকদের তরফ থেকে ছাত্রদের আদবকায়দা ও মাদ্রাসার আইন-কানুন মেনে চলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের সরকারী স্বীকৃতির বিধানাবালী পড়ে শোনানো হয়।

এই সরকারী স্বীকৃতিতে ছাত্রদের সন্তুষ্টি ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ছাত্রদেরকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে বলা হয়।’

ছাত্রদের জমায়েতে বক্তব্য দেওয়া নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষক এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, ‘হুজুরের পুত্র আনাস মাদানির ইচ্ছাতেই সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। এখানে বড় হুজুরের আশপাশে যারা আছেন, তারা ছাড়া সিনিয়র জুনিয়র কোন শিক্ষকের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই’।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর সোমবার হাটহাজারি মাদ্রাসায় হাইয়্যাতুল উলইয়ার বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির আইন পাশ করায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্বর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং একই দিন বেফাকের এক অনুষ্ঠানে হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফির ক্ষমতাসীন দল ঘনিষ্ঠ বক্তব্যের একটা অংশকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়। বেফাক ও হেফাজত সংশ্লিষ্ট অনেকেই এ জন্য আমির পুত্র আনাস মাদানিকেই দায়ী করছেন।

তাদের মতে, আমির পুত্র মাওলানা আনাস মাদানির কারণেই বেফাক ও হেফাজতের নেতারা আমিরের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পান না। যে কারণে, সুবিধাবাদিরা আমিরকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন।