হাট-বাজারে বাঁশি বাজিয়ে এক নিরঞ্জনের নিরন্তর সংগ্রাম…

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৯
0

 

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি॥ কাঁধে তার বাঁিশর ঝোলা,ডানহাতে একটি বাঁিশ।দেখলে মনে হবে তিনি বাঁশি বিক্রেতা,আসলে তা নয়। শহর থেকে গ্রামের হাট-বাজারে,পথে-ঘাটে তিনি বাঁশি বাজিয়ে বেড়ান।কখনও মুখ দিয়ে আবার কখনও নাক দিয়ে সমানতালে বাঁশি বাজিয়ে সুমধুর বাঁশির সুর শুনিয়ে পথচারীদের তিনি মুগ্ধ করেন। তার বাঁশির সুরে বিমুগ্ধ হয়ে শ্রোতারা ১০/২০ টাকা করে যা দেন তা দিয়ে তার কোনমতে জীবন সংসার চলে। পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সাদাসিধে হাসি-খুশি মেজাজ ও হালকা গড়নের বংশীবাদক নিরঞ্জন হালদারের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম নাথারকান্দি।সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান আর যেখানেই লোকসমাগম দেখেন সেখানেই বাজাতে থাকেন বাঁশের বাঁশরী। দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান সহ সব ধরণের গান এমনকি হামদ- নাতের সুরও তিনি তার বাঁশিতে তুলতে পারেন অনায়াসে। তার সুরের জাদুতে মুগ্ধ হন পথে-প্রান্তরের নানা বয়সের মানুষ। তার বিশেষত্ব হলো মুখের মতো নাক দিয়ে তিনি অনার্গল বাঁশি বাজাতে পারেন। সম্প্রতি আষাঢ়ের এক সন্ধ্যায় বানারীপাড়া বন্দর বাজারের ফলপট্টি রোডে তার সুললিত বাঁশির সুর শুনে পথচারীরা থমকে দাঁড়ায়। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে অকপটে বলেন, কিশোর বেলায় অন্যের বাঁশির সুরের মুর্চ্ছনায় প্রেমে পড়ে তিনি বাঁশি বাজানো শিখেন। কিশোর বয়সে শেখার পরে প্রায় ৪০ বসন্ত পেরিয়ে গেলেও আজও তিনি বাঁশি বাজানো ছাড়তে পারেননি। সখের বাঁশি বাজানো একসময় তার পেশা হয়ে দাঁড়ায়। বাঁশি বাজাতে বাজাতে দেশের অনেক জেলা ও উপজেলায় ঘুরেছেন তিনি। শীর্ষ রাজনীতিক ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে তাদের বাসায় গিয়েও বাঁশি বাজিয়ে তাদের মুগ্ধ করেছেন বলে জানান তিনি। একসময় মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো বাঁশির সুর শুনতো কিন্তু কালের আবর্তে বাঁশির সুর শোনার প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যার ফলে তার কদরও কমে গেছে। বাঁশি বাজিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টানাটানির সংসার কোনমতে চলে যায় তার। একমাত্র ছেলেকে চিরতরে হারিয়ে কন্যা আর প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে তার অভাবী সংসার। এ অভাব নিয়ে তার কোন আক্ষেপ নেই্। অন্যকে সুরের মুর্চ্ছনায় সুখ দিতে পারাকে নিজের সুখ মনে করেন তিনি। জীবনের শেষ মুূহূর্ত পর্যন্ত বাঁিশ বাজিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ###

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া
বরিশাল।

LEAVE A REPLY