হারিয়ে যাচ্ছে মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের নিদর্শণ না’গঞ্জের বন্দর শাহী মসজিদ

আপডেট: মে ২০, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের নিদর্শণ নারায়ণগঞ্জের বন্দর শাহী মসজিদ। এ সকল আদি কীর্তিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় যাদুঘরের প্রতœতত্ব বিভাগের উপর ন্যাস্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তা ব্যক্তিদের কর্তব্যে অবহেলা ও কান্ড জ্ঞানহীণ ভূমিকার ফলে বছরের পর বছর ধরে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হতে চলেছে ৫শ’ পুরণো স্মৃতি বিজড়িত এই নিদর্শণ। এ সকল নিদর্শণসমূহ রক্ষনাবেক্ষণে প্রতœতত্ব বিভাগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানছেনা কেউ। বিশেষ করে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকা যে কোন পুরাকীর্তির সৌন্দর্য্যবর্ধণ কিংবা উন্নয়নমূলক কোন কাজ করতে হলে তা দাপ্তরিকভাবে হয়ে থাকে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ ব্যাতিত এসব কাজ স্থানীয় কোন দানবীর বা সামাজিকভাবে করার এখতিয়ার নেই কিন্তু এক শ্রেণীর অতি উৎসাহী ব্যাক্তি বিগত ১০ বছর ধরে বন্দর শাহী মসজিদের প্রাচীণতম নিদর্রশনটির চারিপাশে সীমানা প্রাচীর দিয়ে এটির সৌন্দর্য্য হানি ঘটিয়েছে। মসজিদ সংলগ্নবর্তী পুকুরটিও দিনে দিনে ভরাট হয়ে নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনপ্রকার অনুমোদন ছাড়াই হেফজখানা ও মাদ্রাসার নামে মসজিদের জায়গা দখল করে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করে দোকান-পাটও ভাড়া দিয়েছে। বিষয়টি প্রতœতত্ত্ব বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের অবগত করার পর তারা সীমানা প্রাচীর দেয়ার কিছুদিন পর পরিদর্শণ করে গেলেও অদ্যাবধি সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। যে কারণে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীণতম মোঘল স¤্রাজ্যের সেই ইতিহাস, বিলীন হওয়ার পথে বন্দর শাহী মসজিদ। এলাকাবাসী ও দেশের সর্বস্তরের পর্যটকদের জোরালো দাবি, বাংলার আদি ইতিহাস সংরংক্ষণের স্বার্থে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বন্দর শাহী মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণে আশু কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।