হারুন এর মত স্ট্রং এসপির দরকার ছিল সেলিম ওসমান এমপি

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান বলছেন, জনস্বার্থে আমরা কাজ করবো। আমরা ভুল করলে আমাদের শাস্তি হবে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ভুল করলে তাদের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হবে হয়তো শাস্তি হবে। আমরা চিরজীবনের জন্য আসি নাই। আজকে যারা আছেন তারা এক সময়ে চলে যাবেন। তখন ভালো কাজ করলে আমরা সংবর্ধনা দিব।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, গত সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। নির্বাচনকে কন্ট্রোল করার জন্য ওনার মত (এসপি হারুন অর রশিদ) এসপির দরকার ছিল। সে কারণেই এসপিকে নারায়ণগঞ্জ আনা হয়েছে।

ওনার মত স্ট্রং এসপির দরকার আছে। এক সময়ে হয়তো ওনাকে অন্যত্র নিয়ে যাবে। আমরা কেউ চিরস্থায়ী না। আমাদের সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। তাই আমাদের চেয়ারকে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা খোঁচাখুচি কইরেন না। শান্তির শহর গড়ে তুলুন। আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা না বলে নিউজ কইরেন না। নারায়ণগঞ্জের অনেক অনলাইন মিডিয়া মিথ্যাচার করছে। এগুলো উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ যতক্ষন পর্যন্ত কিছু না ঘটে ততক্ষন পর্যন্ত ঘটিয়ে দিয়েন না। যত গর্জে তত বর্ষে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে কারো ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আমরা নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন চাই। বার বার এসব ভুল বোঝাবুঝি আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের কাজ জনসেবা করা। সেটা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আর এটা করতে গেলে পুলিশ প্রশাসনকে লাগবে। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোন বিভেদ নাই। তারা তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করবো।

অপরদিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। এখানে বরফ জমবে কেন। আপনাদের সাথে তো আমাদের কোন বিভেদ ঝগড়া নাই। আমরা আমাদের মত কাজ করে নারায়ণগঞ্জকে শান্তির সুন্দর করতে চাই। এখন যদি কোন জুয়ার আসর, মদের আসর, তেল চোর ধরে আনি আর সেটা যদি আপনাদের লোক হয় তাহলে তো কিছু করার নাই। তখন আপনারা তাদের আদালতে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়িয়ে আনবেন। কিন্তু আমাদের দোষারোপ করার কোন কারণ নাই।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এমপি সেলিম ওসমান ও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় মেরি এন্ডারসনে মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনায় প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক ক্রীড়া সংগঠক তানভীর আহমেদ টিটু ও শহরের দেওভোগে শিশু সাদমান সাকি অপহরণের ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ও ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলকে জড়ানোর প্রতিবাদে সভা করেছে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

সেদিন চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও শবে মেরাজ ও বৃহস্পতিবারের কারণে কর্মসূচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তার পরেও কাজ না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে। এ অবস্থায় সোমবার এসপি অফিসে যাওয়ার কথা সেলিম ওসমানের। মঙ্গলবার সেলিম ওসমান এসপি অফিসে গেলে সেখানে লাঙ্গলবন্দ সভায় উপস্থিত হন। সভার শুরুতে স্নান উৎসব নিয়ে আলোচনা শেষে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেন এমপি ও এসপি।