হেফাজতকে কটাক্ষ করা নাসিমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন আল্লামা কাসেমী

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম গত ৮ মার্চ শুক্রবার ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামকে ইঙ্গিত করে ‘ধর্মান্ধ একটি দল আবার মাঠে নেমেছে’ বলে যে উক্তি করেছেন, এর কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা করেছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম এই দেশের কোটি কোটি তাওহিদী জনতা ও উলামায়ে কেরামের প্রাণের সংগঠন। আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতা কখনোই ধর্মান্ধ নয়, বরং ধর্ম ও ইসলামপ্রিয়। ইসলামনির্মূলবাদি চক্রের দোসর বা নাস্তিক্যবাদি চিন্তা লালন না করলে কোন মুসলমান ইসলাম ও আলেম-উলামার বিরুদ্ধে এমন কটূক্তি করার সাহস পাবে না।

মেনন-নাসিমদের উচিত, মুখ সামলে ও হুঁশ-জ্ঞান ঠিক রেখে কথা বলা। দেশের ৯২ ভাগ মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও চেতনাবোধের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে ক্ষেপিয়ে তুলবেন না। পরে পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না।

গতকাল এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, ইসলাম নির্মূলবাদী চক্র যে ভাষায় কথা বলে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ও উলামা-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে যে ধরণের অসহিষ্ণুতা দেখায়, মেনন, নাসিমদের কথাবার্তায়ও একই সুর আমরা দেখতে পাই।

তাদের অন্তরে যেন শিবসেনা ও আরএসএসের মতো মুসলিমবিদ্বেষী চিন্তার বাসা বেঁধেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার বার বলে থাকেন, তার সরকার কিনা ইসলাম অবমাননাকর কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না। অথচ, ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের মুখ থেকেই আমরা ইসলামবিদ্বেষী কথাবার্তা বেশি শুনতে পাই। সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া তারা আলেম-ওলামা ও ইসলামকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার সাহস কী করে পায়? ইসলাম অবমাননা, ইসলামী বিধানকে কটাক্ষ করে কথা বলা

এবং ইসলামী শিক্ষা ও আলম-উলামার বিরুদ্ধে কথা বলা যেন তাদের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে থাকলে সবার আগে দরকার তাঁর নিজের দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানো।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বিবৃতির শেষ দিকে রাশেদ খান মেনন ও মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি তাদের ইসলাম ও উলামাবিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার করে তাওবা করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যথায় তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধের গণজোয়ার তৈরি হলে তারা কোথাও ঠাঁই পাবেন না এবং পরকালে আল্লাহর দরবারেও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।