১৩ দিনেও বৃষ্টির খোঁজ পায়নি পরিবার : ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামীরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শশুর বাড়ি থেকে নিখোঁজের ১৩ দিন পেড়িয়ে গেলেও বৃষ্টির কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা তার পরিবার। স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সরাসরি মদদে ধরাছোঁয়ার বাইরে স্বামী-দেবর সহ আসামী পক্ষের লোকজন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৬ বছর পূর্বে গনি মিয়ার একমাত্র মেয়ে মোসাম্মৎ মরিয়ম আক্তার বৃষ্টি(১৮)’র সাথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুর হাটখোলা এলাকার দুলাল মিয়ার বড় ছেলে তানজিল(৩২) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ২ লক্ষ্য ৮৬ হাজার টাকার ফার্নিচার দেয়া হয় তানজিলের পরিবারকে। ৩ বছর পর তাদের কোলজুড়ে আসে পুত্র সন্তান তাজিম, যার বয়স এখন ৩। বিয়ের পর সুখ-দুঃখ নিয়েই সংসার অতিবাহিত হচ্ছিল তাদের। তবে গত ২ বছর যাবৎ পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। শহরের চাষাঢ়াস্থ পানোরমা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় একটি জেন্টস শপ এ সেলসম্যান এর চাকরি করা তানজিল ২ বছর যাবতই নানা অজুহাতে বৃষ্টির পরিবার থেকে টাকা এনে দিতে বলে। কিন্তু বৃষ্টির পরিবার এতটা সচ্ছল নয় যে মেয়ে জামাইয়ের এ দাবি পূরন করবে। দাবি পূরন না করার কারণে প্রায় সময়ই স্বামী-দেবর ও পরিবারের অন্যদের হাতে শারীরিক মানসিক ভাবে নির্যাতিত হতে হয় বৃষ্টিকে।

এরই সূত্র ধরে গত ২১ জানুয়ারি বৃষ্টিকে স্বামী তানজিল ও দেবর তুহিন সংসারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেদমভাবে মারপিট করে। পরের দিন তানজিলের বাবা বৃষ্টির বাবাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে বলেন- তার মেয়েকে(বৃষ্টিকে) হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা এবং নাতিকে লুকিয়ে রেখে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে ২২ জানুয়ারি অনেক খুঁজাখুঁজি করে বৃষ্টির বাবা মা ফতুল্লা মডেল থানায় এসে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে থানায় অভিযোগ করার পর থেকে নিখোঁজ বৃষ্টির পরিবার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাফিউল আলমকে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সদস্য মেজবাহ উর রহমান পলাশ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং চৌধুরী গাঁও মহিলা সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি রাবেয়া আক্তার রীমার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে কোনো ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেননি। বরং ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে আসামীর পরিবারের পক্ষ নিয়ে অনেকেই থানায় দৌড়ঝাপ করছে বলে বৃষ্টির পরিবার জানায়।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শাফিউল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, অভিযুক্ত তুহিন ও এর পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিকে দ্রুত উদ্ধার ও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমি পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে অভিযুক্ত তুহিনের পরিবারও নিখোঁজ বৃষ্টির ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন।

দীর্ঘ ১৪ দিন পেরেয়ে গেলেও বৃষ্টির কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের একটাই আকুতি- মেয়েকে ফিরে পাওয়া। এ ব্যাপারে তারা পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।