২ বছরেও রহস্য উদঘাটনহয়নি বিপুল অত্যাধুনিক গোলাবারুদ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা!

আপডেট: জুন ২, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে দুই বছর আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এর মধ্যে রকেট লাঞ্চার যেমন ছিল, তেমনি ছিল বিস্ফোরক জেল বিভিন্ন সরঞ্জাম। তবে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস বা গন্তব্য খুঁজে বের করার কোনো তৎপরতা নেই আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
২০১৭ সালের ২ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত টানা বাহান্ন দিনের অভিযানে পুলিশ ৭৪ টি অত্যাধুনিক চাইনিজ এসএমজি, বিপুল পরিমান হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট লাঞ্চার, রকেট লাঞ্চারের প্রজেক্ট, অস্ত্রের ম্যাগাজিন, পিস্তল, হাই ফিকোয়েন্সির নন ট্যাকার ওয়াকিটকিসহ কয়েকবস্তা গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সকল আসামীকে গ্রেফতার করলেও পুলিশ অদ্যাধি অস্ত্রের মজুদ দাতাদের সন্ধান বের করতে পারেনি।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূবার্চল উপশহর থেকে মজুদ করা বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র তালিকায় ছিল আইএসদের ব্যবহারিত ৬২ টি চাইনিজ এসএমজি, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২ টি রকেট লাঞ্চার, ৪৯টি রকেট লাঞ্চারের প্রজেক্ট, ৬০ টি ম্যাগাজিন, ৫টি পিস্তল, দুটি নন ট্যাকার ওয়াকিটকিসহ বিপুল পরিমান গুলি।
ওই সময়ে পুলিশ জানিয়েছিলেন, ঘটনার দুদিন আগে একটি চাইনিজ এসএমজিসহ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বাগলা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শরিফ খানকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুসারে পহেলা জুন রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে ২ জুন পূর্বাচলের ৩ সেক্টর সংলগ্ন সী-শেল আবাসিক কোম্পানির বালুর নীচ থেকে একই ধরনের আরো দুটি চাইনিজ এসএমজি ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের সহায়তায় ৫ নং সেক্টরের লেকের পানি থেকে বিশাল অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পুলিশ মহাপরিদর্শক শহিদুল হক বলেছিলেন, বাংলাদেশে নানা ধরনের সন্ত্রাসী হামলা, দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলতে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অস্ত্র মজুদের ব্যাপারটা থাকতে পারে।
বিশাল অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান লাভের পরের দিন ৩ জুন হাই ফিকোয়েন্সির নন ট্যাকার ওয়াকিটকি ও হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় আটক বাগলার শরিফ খান, ৫ নং সেক্টরের গোবিন্দপুর এলাকার নাইম মিয়ার ছেলে শান্ত, কামতা এলাকার রাসেল ও মাঝিপাড়া এলাকার শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের দেখানো মতে ৪ জুন উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের কুড়ি আইল এলাকা থেকে স্থানীয় শমসের আলীর ছেলে মুরাদ নামে আরেক জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার দেয়া তথ্য মতে নতুন আরো অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শীতলক্ষ্যা নদীতে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে সে।
স্বীকারোক্তি অনুসারে ৪ জুন গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের বাসুন্দা এলাকার শীতলক্ষ্যা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির সহায়তায় নদী থেকে ৫ টি চাইনিজ এসএমজি উদ্ধার করেন। এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদুল ইসলাম বাদি হয়ে আটক ৬ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে রিয়াদ নামে একজনকে পলাতক দেখানো হয়।
৭ জুন পূর্বাচল উপশহরের ৫নং সেক্টর এলাকার একটি লেক থেকে আরও একটি রকেট লাঞ্চারের শেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের পর থেকে লেকে আরও অস্ত্র-গোলাবারুদ আছে কি না, সেটি তল্লাশি করার জন্য সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হয়। পরে লেকের প্রায় অর্ধেক পানি সেচ করা হলে ৭ জুন পানিতে একটি বক্স দেখতে পায় পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাতে বক্সটি লেকের পাড়ে তুলে এনে খোলা হলে সেখানে একটি রকেট লাঞ্চারের একটি শেল পাওয়া যায়।
১০ জুন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। এ ঘটনার প্রায় দেড়মাস পর গত ২৪ জুলাই পূর্বাচল উপ শহরের ৫নং সেক্টর থেকে আরো ৬টি এসএমজি উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। লেকের উপরে একটি পানির ড্রেন থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এসব এসএমজি উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে আইএসদের ব্যবহারিত সর্বমোট ৭৪টি এসএমজি উদ্ধার করেছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
বিশাল এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, মামলাকে ঘিরে অত্যন্ত সুক্ষ্ম তদন্ত চলছে। অল্পকিছু দিনের ভিতর অস্ত্র মজুরের রহস্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে। চট্রগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর এটাই বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ অস্ত্রের চালান আটক হয়েছে। এটা শুধু নারায়ণগঞ্জ জেলা নয় গোটা পুলিশ বিভাগের একটি সফল অভিযান।

এম আর কামাল

LEAVE A REPLY