৫ কোটি ফেসবুক এ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রায় পাঁচ কোটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে বলে জানাল মার্ক জ়াকারবার্গের সংস্থা। প্রোফাইলের ‘ভিউ অ্যাজ’ ফিচারে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফাঁক গলেই হ্যাকারেরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি ফেসবুকের।

এর আগেই অবশ্য সোশ্যাল সাইটটি স্বীকার করেছে যে নির্দিষ্ট মানুষটির কাছে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়ার কাজে বরাবর গ্রাহকের দেয়া ফোন নম্বরই ব্যবহার করে এসেছে তারা।

কী ভাবে? অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে আপনি যে ফোন নম্বর দিয়েছেন, ফেসবুক দিব্যি তা দিয়েই ব্যবসা করে চলেছে— পরোক্ষভাবে এটা মেনেই নেন ফেসবুকের এক মুখপাত্র।

নেটিজ়েনদের অনেকেই নিজের ফোন নম্বর আপলোড করেন ফেসবুকে। আবার ফেসবুকের নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোতেও অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে গ্রাহকদের ফোন নম্বর দিতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন গবেষক দাবি করেন, গ্রাহকের কোনো পরিচয়-তথ্যই আর ব্যক্তিগত নয়। সবটাই বেহাত হয়ে গেছে। মার্কিন গবেষকদের দাবি, গ্রাহকের ‘গুগল সার্চ হিস্ট্রি’ বা পছন্দ জেনে, তাদের দেয়া কনট্যাক্ট তথ্য ব্যবহার করেই তাদের টাইমলাইনে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পাতে ফেসবুক।

ওই মুখপাত্র বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত পছন্দ মাফিক আমরা গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে চাই। বিজ্ঞাপনও একটা বড় অংশ।’’ তবে গ্রাহকেরা চাইলেই ফোন নম্বর জাতীয় তথ্য মুছে ফেলতে পারেন বলে জানান তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্যও বিক্রি হয়ে গেছে

ফেসবুকের হাতে উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ফের সংশয় প্রকাশ করলেন হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান অ্যাক্টন। এক মার্কিন পত্রিকাকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কোনো রাখঢাক না রেখেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি। তার কথায়, ‘‘১৯০০ কোটি ডলারে ফেসবুকের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বিক্রি করে উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যও সম্ভবত ‘বিক্রি’ করে দিয়েছি আমি।’’

২০০৯ সালে জান কুউমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাক্টন। তার দাবি, মেসেজিং অ্যাপটি যত দিন তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তত দিন গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা নিয়ে সব সময়ে সচেতন ছিলেন তারা। এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপ বিক্রির সময়ও গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখার শর্তটি জুড়ে দিয়েছিলেন তারা। অ্যাক্টনের দাবি, সেই শর্ত থেকে সরে আসছেন দেখেই ফেসবুকের সিইও মার্ক জ়াকারবার্গের সঙ্গে বিরোধ হয় তাদের। ২০১৭ সালে হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়েন অ্যাক্টন। চলতি বছরে সরে আসেন কুউমও।

সাক্ষাৎকারে অ্যাক্টন জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাণিজ্যিকীকরণের বিপক্ষে ছিলেন তারা। অথচ হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের প্রচার করতে চাইতেন জ়াকারবার্গ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকদের ফোন নম্বর ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল ফেসবুকের। যাতে সরাসরি বাণিজ্যিক সংস্থা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অ্যাক্টনের দাবি, ফেসবুক বরাবরই এই পরিকল্পনা নিয়ে চলেছে। ফলে হোয়াটসঅ্যাপের শেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তার কাছে। অ্যাক্টনের কথায়, ‘‘আমার সংস্থা আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। তার সঙ্গে সঙ্গে হয়ত উপভোক্তাদের গোপনীয়তা বিকিয়ে দিয়েছি। আপস করে হলেও হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমায় প্রতিদিন এই ভাবনা নিয়েই কাটাতে হয়’’।

গত নভেম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ার পর থেকেই নানা সময়ে ফেসবুকের সমালোচনা শোনা গেছে অ্যাক্টনের মুখে। ফেসবুক থেকে তথ্য চুরি নিয়ে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলঙ্কারির পরে ‘ডিলিটফেসবুক’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন তিনি। অ্যাক্টনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এখনো কোনো জবাব দেয়নি ফেসবুক।