৯৯৯ কলে নির্যাতিতা গৃহবধু উদ্ধার

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

গাজীপুর সয়বাদদাতাঃ ৯৯৯ কলের সুফল পাচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ। ওই নম্বরে কলের সূত্র ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রাম থেকে স্বামীর নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিতা ওই গৃহবধু রহিমাকে (২৫) উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, নির্যাতনের শিকার রহিমা আক্তার ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার জাঙ্গাইল গ্রামের মিয়া আলীর মেয়ে। গত ৯ বছর আগে শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামের সব্বত আলীর ছেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭বছর বয়সের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এটি জহিরুলের দ্বিতীয় বিয়ে। জহিরুলের প্রথম সংসারে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। রহিমার সঙ্গে এক আত্মীয়ের পরকীয়া থাকার সন্দেহে গত ছয়মাস ধরে রহিমাকে তার স্বামী জহিরুল নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে।

নির্যাতনের শিকার রহিমা জানান, পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহে স্বামী জহিরুল গত বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন করে আসছে। কিস্তু ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি নির্যাতন সহ্য করে আসছেন।এসময় লোহার পেরেক গরম করে তার কপালে আগুণের ছেঁকা দেয়া হয়। এতে ক্ষত হলেও তাকে চিকিৎসার কোন সুযোগ না দিয়ে ঘরে আটকে রাখা হত। পরে স্বামীর অগোচরে এক স্বজনকে নির্যাতনের ঘটনা জানালে তারা ৯৯৯ এ কল দেন।

তবে গৃহবধুর স্বামী রফিকুল ইসলাম স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি তার স্ত্রীকে পরকীয়ায় জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ করছেন, এ ঘটনায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে স্ত্রী রহিমা কপালে ও তিনি হাতে আঘাত পান।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ কলের সূত্র ধরে নির্যাতনের শিকার গৃহবধুকে আহতাবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধুকে থানায় অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জয়নব আক্তার জানান, নির্যাতিতা রহিমার কপালে গরম ধাতব বস্তুর ছেঁকা রয়েছে, এছাড়াও সারা শরীরেও আঘাতের অনেকগুলো চিহ্ন রয়েছে।
###
মোঃ রেজাউল বারী বাবুল