৯ ঘণ্টা ভয়াবহ জনদুর্ভোগের পর নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন চলাচল

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ২০ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা হতে টানা ৯ ঘণ্টা জনদুর্ভোগের পর বেলা ৩টায় অবরোধ তুলে নিয়েছে শ্রমিকেরা। এর পর থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে শ্রমিকেরা সরে যেতে শুরু করলে শুরু হয় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহর থেকেও শুরু হয় যান চলাচল। তবে টানা ৯ ঘণ্টা অবরোধের কারণে লাখ লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
সাইনবোর্ডে অবরোধকারীরা জানান, তারা তাদের দাবির প্রতি অবিচল। কিন্তু বুধবার মন্ত্রীদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের কারণে আপাতত সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দাবী না মানলে প্রয়োজনে আবারও অবরোধ করা হবে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সকল পরিবহন বুধবার সকাল থেকে বন্ধ ছিল। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেও না পেয়ে হাঁটতে শুরু করে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে অবরোধ করে রাখে পরিবহন শ্রমিকেরা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যানচলাচল বন্ধ ছিল।
শ্রমিকরা জানায়, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখা সহ নয় দফা দাবিতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডাকে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওই কর্মবিরতিতে সংহতি প্রকাশ করে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকেই পরিবহন শ্রমিকেরা সাইনবোর্ড এলাকায় দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন ব্যক্তিমালিকাধীন সহ বেসরকারি গাড়ি চলাচল করছিল। পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় এলোপাতাড়ি যানবাহন ফেলে রেখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ঢাকামুখী রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে করে শিবু মার্কেট থেকেই এ সড়ক তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন যানবাহন। অতিষ্ট হয়ে যাত্রীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে যেতে শুরু করে।
সরেজমিনে চাষাঢ়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা চাষাঢ়া বাস টার্মিনালে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন। কোন বাস থাকায় অনেকেই বাসায় ফিরে যান। আর যারা জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েছে তাদের কেউ ট্রেনের জন্য আবার কেউ হেঁটে রওনা হন কিংবা রিকশায়। সিএনজি অটোরিকশাও চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। শুধু মাত্র প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও লেগুনা চলাচল করতে দেখা যায়।
পরিবাহন শ্রমিকেরা বলেন, আমরা গলায় ফাঁসি নিয়ে পরিবহন চলাবো না। কারণ পরিবহন চালানো একটি সেবা। আমরা মানুষকে সেবা দেই। আর কেউ ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। তারপরও কঠোর শাস্তির বিধান করেছে। আবার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজ সহ বিভিন্ন কিছুর জন্য হাজার গুন জরিমানা ধার্য করেছে। এগুলো কিভাবে পরিশোধ করবো। আমরা সারা মাসে ২৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারি না। ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হলে গাড়ি সহ সংসারের জিনিসপত্র বিক্রি করতে হবে। এভাবে গাড়ি চলানো সম্ভব না।

LEAVE A REPLY