সরকারের ব্যর্থতার কারণেই দেশে দুর্ঘটনা ঘটছে– মির্জা ফখরুল

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯
0
file photo

খালেদা জিয়াকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলে আবারও অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তারা যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন তারা যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেই রিপোর্ট পর্যন্ত প্রকাশ করা হচ্ছে না।অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সঠিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার বিষয়টি প্রকাশ করা হোক। জনগণ তা জানতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার দুপুরে এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-বিএসপিপি’র উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সামনে বেগম খালেদা জিয়া’র নিঃশর্ত মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবীতে- পেশাজীবী সমাবেশে মীর্জা ফখরুল এ কথা বলেছেন।

সরকার দেশের মধ্যে যে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা নয়। সারাদেশে একটা ফ্যাসিবাদ ফ্যাসিবাদের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে গত কয়েক বছরে।এখনো পর্যন্ত মিথ্যা মামলায় আসামির সংখ্যা ২৬ লাখের উপরে। মামলার সংখ্যা এক লাখের উপরে। পাঁচ শতাধিক নেতাকে গুম করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদেরকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। অসংখ্য মানুষ আহত। এইরকম একটা ভয়াবহ অবস্থা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে কেউ মন খুলে কথা বলতে পারেন না। কোনো ছোট ঘটনায় মামলা দেওয়া হয় সেখানে দেখা যায় অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা পাঁচ হাজারের উপরে। সাধারণ মানুষ কেউ এই মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয় না।

সরকারের নানান ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন তারা নতুনভাবে শুরু করেছে শুদ্ধি অভিযান। কিসের শুদ্ধি। তারা জানেন, ছোটখাটো চুনোপুটি তাদেরকে ধরে এনে বলা হচ্ছে অপরাধীদেরকে ধারা হচ্ছে কিন্তু আসল অপরাধী তো উপরে। 29 তারিখে যারা ভোট ডাকাতি করেছে তাদের চেয়ে বড় অপরাধী তো আর কেউ হতে পারে না। তারা জনগণের মৌলিক অধিকারকে হরণ করেছে’ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোন জাবেদা নাই কারণ জনগণের কোনো পার্লামেন্ট নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই সরকার শুধু দেশের মধ্যে যে ভয়াবহ একটা অবস্থার সৃষ্টি করেছেন শুধু তাই নয়। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজকের তাদের ব্যর্থতার কারণে বিপন্ন হতে চলেছে। ১০ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে দেশে। মিয়ানমার তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তারা নির্মূল করে দিতে চায়। সরকার সেভাবে জোরালোভাবে তার কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে অথচ আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত সেভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি । যে পদক্ষেপের ফলে আজকের সত্যিকারের আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের উপরে একটা প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। আজকে যাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো তারাই মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ভারত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতে তিনি চুক্তি করলেন তা নিয়েও অনেক ঢাকঢোল পেটানো হলো। আমরা ভেবেছিলাম তিস্তা নদীর পানি চুক্তি করতে পারিনি হয় তো তিস্তা নদীর পানি চুক্তি করতে পারবেন। কিন্তু সেখানে এক ফোঁটা পানি চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে ফেনী নদীর পানি তাদেরকে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে এসেছেন। গ্যাস আমদানি করে আগরতলায় পাঠানো হচ্ছে। জনগণ এতো বোকা নয় যে তারা বোঝে না। আজকে বঙ্গোপসাগরের রাধা লাগানো হচ্ছে বঙ্গোপসাগরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। ভারত সেই রাডারগুলো বসাবে এবং তারা পর্যবেক্ষণ করবে সাগরকে।

আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছি। এবারও চাই চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা হচ্ছে কিনা সেগুলো বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই সরকারের কাছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকলকে এক হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।তাদেরকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার দেওয়ার জন্য। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকার কায়েম করতে হবে।

শুধু রেল দুর্ঘটনা নয় প্রতিদিন দেখবেন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে সরকার ব্যর্থ হয়ে গেছে। এই সরকার ব্যর্থ সরকার তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আমরা চাই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে যেন এগিয়ে আসে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত রয়েছেন- বিএসপিপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএসপিপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজে’র সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সুপ্রিম কোট বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি এড. জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিঃ আ.ন.হ. আক্তার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহসচিব ইঞ্জিঃ হাসিন আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, এসোসিয়েশন অফ এগ্রিকালচারিস্ট এর আহ্বায়ক রাশেদুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, সদস্য সচিব- অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক – কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, আহবায়ক সাদাদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবি’র আহবায়ক অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, এমবিএ এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আলমগীর, মহাসচিব জনাব শাকিল ওয়াহেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান সহ সিনিয়র পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY