মোটা তো কী!‌ তোমাকেই ভালবাসি’‌

0
13

দেশ জনতা ডেস্ক: যে স্থূলকায় চেহারার জন্য একদিন লজ্জায় মুখ লুকিয়ে বেড়াতেন, এখন সেটার জন্য গর্বের শেষ নেই সারা ট্রিপের!‌ নেপথ্যে অবশ্যই রয়েছে তাঁর স্বামী রোবি ট্রিপের হাত। পৃথুলা স্ত্রী এতদিন নিজের ওজন নিয়ে অবসাদে ভুগতেন, সেই ওজনকেই সারা–র মনোবলে পরিণত করেছে রোবি। ২৬ বছরের রোবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি–র বাসিন্দা। তিনি একজন খ্যাতনামা ব্লগার।
নিজের ব্লগে রোবি লিখেছেন, ‘‌কৈশোর থেকেই স্থূলকায়া মহিলাদের প্রতি আমি আকর্ষণ বোধ করতাম। তাঁদেরই আমার বেশি আকর্ষণীয়া মনে হতো। এজন্য বন্ধুদের কাছে অনেক টিটকিরি সহ্য করেছি। তারা বলত, আমি নাকি বিকৃত মানসিকতার। কিছুতেই বোঝাতে পারতাম না, সৌন্দর্যের সঙ্গে ওজনের কোনও সম্পর্ক নেই। সৌন্দর্যের আসল রহস্য হল বৈচিত্র। সকলেই যদি একরকম দেখতে হয়ে যান। সকলের দেহসৌষ্ঠবই যদি একরকমের হয়, তাহলে একে অন্যের চেয়ে আলাদা হবেন কী করে। আর আলাদা না হলে তো কারও প্রতি বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করা সম্ভব নয়।’‌ রোবি মনে করেন, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া, ফ্যাশন দুনিয়া এবং বিজ্ঞাপন জগৎ সৌন্দর্যের একটা বিকৃত সংজ্ঞা তৈরি করছে। যেখানে দেখানো হচ্ছে, স্থূলকায়া মহিলারা সুন্দর নন। সৌন্দর্যের একমাত্র চাবিকাঠি হিলহিলে নির্মেদ শরীর।

রোব লিখছেন, ‘‌নির্মেদ চেহারা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল হতে পারে, কিন্তু মেদের সাপেক্ষে সৌন্দর্যকে কখনও মেপে ফেলা যায় না।

পুরুষরাও এই বহির্জগতের প্রচারে প্রভাবিত হচ্ছেন। অনেক সুন্দর মনকে তাঁরা উপেক্ষা করছেন সুন্দর শরীর পাওয়ার আশায়। যা নিজেকে ঠকানোর সামিল।’‌
স্ত্রীর উদ্দেশে রোবি–র বার্তা, ‘‌হতে পারে তোমার ওজন আর পাঁচজনের চেয়ে কিছুটা বেশি। এটা তোমার দোষ নয়।

আর যদি দোষও হতো, তাও তোমাকে ভালবাসতাম। এখনও ভালবাসি। কারণ, আমার যখন মন খারাপ থাকে, আমি যখন ক্লান্ত থাকি কিংবা আমি যখন মানসিক আশ্রয় খুঁজি, তখন তুমি আমার পাশে থাকবে কি না, সেটা ওজনের ওপরে নির্ভর করে না। নির্ভর করে মানসিকতার ওপরে। তুমি সবসময় আমার পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। এই পারস্পরিক সমঝোতাটাই আমাদের ভালবাসাটাকে টিকিয়ে রাখবে।’‌
কিন্তু কেন হঠাৎ এমন কথা লিখতে গেলেন রোবি?

‌ তিনি জানাচ্ছেন, কয়েকদিন আগে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা হয়েছিল দু’‌জনের। কিন্তু কোনও কারণ না দেখিয়েই, নিরৎসুক সারা সেই প্রস্তাব বাতিল করে দেন। বিষয়টা সন্দেহজনক লেগেছিল রোবি–র।

স্ত্রী–কে চেপে ধরার পরে একসময়ে সারা আসল কারণটা জানান। প্রাথমিকভাবে সমুদ্রে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন সারা। কিন্তু গিয়ে কী লাভ, সেখানে তো আর বিকিনি পরে সাঁতার কাটতে পারবেন না। যদি বা পারেন, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডও করতে পারবেন না।

যদি বিকিনিতে তাঁর ‘‌বেমানান’‌ শারীরিক গঠনের ছবি দেখে কেউ বিদ্রুপ করেন?‌ তার চেয়ে ঘুরতে না যাওয়াই ভাল। কারণ জানতে পেরেই জোর করে স্ত্রীকে নিয়ে মায়ামি–র সমুদ্রতটে ঘুরতে নিয়ে যান রোবি। সঙ্গে নেন মার্কিন মুলুকের বিখ্যাত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার কেলি ম্যাকরে–কে।

স্ত্রী–কে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রসৈকতে একাধিক ছবি তোলান রোবি। সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করতেই ‘‌লাইক’‌–এর বন্যা বয়ে যায়। রোবি–র ব্লগের পোস্টটিও ভাইরাল হয়ে যায়। সকলেই শুভকামনা জানিয়ে বলছেন, এরকমই থাকো দু’‌টিতে। আর সারা কী বলছেন?‌

তাঁর বক্তব্য, ‘‌রোবি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। শুধু ভালবাসা নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরাতেও সাহায্য করেছে ও। ওকে খুব খুব ভালবাসি। এর বেশি আর কী–ই বা বলতে পারি।’‌‌

LEAVE A REPLY