জল নিথর

0
25

মা হ মু দা ড লি

শেষ বিকেলে, মেঘ ঠোঁটে যে অভিমানিনী;
সে আমার কাছের কেউ নয়, পড়শী।
আটপৌরে ডুরে শাড়িতে পেঁচানো মেয়েটি; আঘাতে স্তম্ভিত,
রাতের গভীরে-চাই না চাই, অবসাদমাখা
শরীরের ঢাল বেয়ে সমুদ্রে নামে নরক!
অন্ধকারে ছুরির ফলায়, নদী…রক্তস্রোত চলে অবিরল।
কথা দিয়েছিলাম রানীকে—
আমার সুখের নীলিমায় সে সঙ্গী হবে,
ঘাসে ঘাসে রঙিন প্রজাপতি ডানা মেলবে।
আর আমি;
শরীরে এখনো বৃষ্টির দাগ,
ছেঁড়া পালের কেয়া পাতার নায়ে—
নৈঃশব্দ্যের গভীরে জীবনের অর্থ খুঁজি।
নুন-ভাতে নিত্য স্বামী সোহাগিনী হলো না মিলা;
জল নিথর পাখির চোখে
কথা দে স্বপ্না—
সমস্ত আলো, সমস্ত ভালোবাসা, বরষা
যেন পার না হয় আমার জীবন সীমানা!
একটা চাকরি যোগাড় করে দিবি?
সাজানো সংসারে শিখা জ্বালাবার!
আর আমি;
চারপাশে কদর্য, শানিত দাবানলের জলছবি,
ইচ্ছেগুলো জমিয়ে রেখেছি, হয়তোবা—
সংসার ছোঁয়া জীবনের ভাষা বুঝিনি!
তবু হৃদয়পিণ্ডে হেনা, বর্ণা, মিলা, রানী, কবিতা পঞ্চমীরা;
বার বার ফিরে আসে, কান ঝাঁঝালো
শত-সহস্র ঠাট্টা পরিহাস নিয়ে!
কষ্ট হয় বড়, খোঁজেনি আমার গভীরে,
যে আমি, কর্মক্ষেত্রে বনসাই, ঠগিনী!
স্বপ্নরা ঝড়ে মাইন পোঁতা—
আমার চলার পথে।

পরাজয় করি উদযাপন; কাঁটা লতা-গুল্মে
তবু চলছেই যুদ্ধ নিরন্তর…

আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত

 

LEAVE A REPLY