বিদ্রোহী কবি নজরুলের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0
14

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ ভাদ্র । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে আজ সকালে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়েছেন সর্বস্থরের মানুষ।

রোববার সকাল সাতটায় কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির নাতনি খিলখিল কাজী, তার ভাই বাবুল কাজীর স্ত্রী লুনা কাজী ও তার মেয়ে আবাছা কাজী। পরে তারা কবির আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন।

এসময় খিলখিল কাজী বলেন, ‘সর্বস্তরের মানুষের কাছে কাজী নজরুলকে পৌঁছে দিতে পারিনি আমরা।
এই পৌঁছে দিতে না পারার জন্য আমরাই দায়ী। কারণ, আমরা কবিকে নিয়ে সেভাবে চর্চা করছি না। কাজী নজরুল ছিলেন সবার কবি, মানুষের কবি। গ্রাম থেকে শহরে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল পড়াতে হবে, তার জীবনদর্শন জানাতে হবে।’ এই সময়ে বিশ্বে যেখানে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তখন নজরুলদর্শনের চর্চা খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেন খিলখিল কাজী।

পরে উপাচার্য আ আ ম স আরোফিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি,নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষে এবং ব্যক্তিগতভাবে কবির অনুরাগীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত সভায় কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এসময় ওবায়দুল কাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতা শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িকতার সেই বিষবৃক্ষ মূলোৎপাটনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির পক্ষে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কাছে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম একটি আদর্শ, আমাদের প্রেরণা। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ, আমাদের স্বাধীকার আন্দোলন, আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামে তিনি আমাদের সব সময় প্রেরণা যুগিয়েছেন। জাতীয় কবির যে অবদান শিল্প-সাহিত্য, দেশপ্রেম, সংগ্রাম- এটা কোনো মতেই তুলনা করা সম্ভব নয়।’

ওদিকে, কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

LEAVE A REPLY