একই ব্যক্তি দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান : শিক্ষাবোর্ডের কারণ দর্শাও নোটিশ

0
10

খুলনা সংবাদদাতা ঃ
একই ব্যক্তি দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে চাকুরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ ব্যক্তি নাম শেখ আব্দুল হান্নান। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার এবিজিকে ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে “কেন শেখ আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না” ২২ আগষ্ট এ সংক্রান্ত একটি কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেছেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিষ্টার প্রফেসর মোঃ মুজিবুর রহমান।

এলাকাবাসি ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়; মাদরাসা সুপার শেখ আব্দুল হান্নান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সাল থেকে থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্বেচ্ছাচারিভাবে মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় অভিভাবক, পরিচালনা পরিষদের কাউকে তিনি পাত্তা দেননি। এমনকি ২০১৫ সালে মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কমিটি না থাকায় মাদরাসার সার্বিক বিষয় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি এসএম গোলাম কুদ্দুস বলেন; আমাদের অতি কষ্টে গড়া মাদরাসাটি সুপার এক হাতেই নষ্ট করে ফেলছে। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গত তিন বছর ধরে মাদরাসায় নিয়মিত কমিটিতো দূরে থাক এডহক কমিটিও নাই। বিধিমোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরে শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান এখন অচলাবস্থায় চলছে।
এদিকে মাদ্রাসা সুপারের একই সাথে ২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরী করার বিষয়ে ওই এলাকার এস এম গোলাম সরোয়ার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়। উপজেলা নির্বাহি অফিসার ঘটনা সত্য বলে মাদরাসা বোর্ডে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
গত ২২ আগষ্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিষ্টার প্রফেসর মোঃ মুজিবুর রহমান কেন শেখ আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না এ সংক্রান্ত একটি কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে শেখ আব্দুল হান্নান বলেন; নিয়োগবিধি অনুযায়ি গত ৫ জানুয়ারি’২০১৩ ইং তারিখে কেশবপুর উপজেলার এবিজিকে ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে নামে মাত্র যোগদান করি। তবে থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার পদে পদত্যাগ বা ছাড়পত্র নেইনি। সেখানে অধ্যক্ষের কোন দায়িত্বও নেইনি। তবে মানবাধিকারের প্রশ্নে আমি এমপিওভুক্তির জন্য মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট করি। সেখানে থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার ছাড়পত্র বা পদত্যাগপত্র না থাকায় ১২ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে আমার রিট খারিজ করে দেন। মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের পর এককভাবে আমি থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার পদেই আছি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন; কোন ব্যক্তি একই সাথে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন না। যদি কোন ব্যক্তি এমন করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন; আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান বলেন; মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এমন কোন অভিযোগ দেয়া হয়েছে কিনা বা কোন কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তিনি বলেন; থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটি নেই। তাই বিধি অনুযায়ি পদাধিকার বলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান পত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি স্বাক্ষর করে থাকি।

LEAVE A REPLY