খুলনায় কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ‘সুশীলন’কে লিগ্যাল নোটিশ

0
82

খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ বেসরকারি সংস্থা-এনজিও ‘সুশীলন’র বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। গাজী আসাদুল্লাহ নামক এক ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হয়ে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। লিগ্যাল নোটিশে এ ব্যাপারে এক সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণকারী এ্যাডভোকেট মল্লিক আল হেলাল জানান; রূপসা উপজেলার শিরগাতী গ্রামের গাজী আসাদুল্লাহ’র পক্ষে গত ২৪ আগস্ট গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্টে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। যা যথা সময়ে সুশীলন কর্তৃপক্ষ রিসিভ করেছেন।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুশীলন খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশী-বিদেশী অর্থায়নে সেবামূলক কর্মকা- পরিচালনা করছে। সুশীলনের দুইটি জেনারেল একাউন্ট রয়েছে। যার একটি ডাচ বাংলা ব্যাংক খুলনা শাখায় এবং অপরটি এনসিসি ব্যাংক খুলনা শাখায়। এই একাউন্ট দুটি সুশীলনের অপ্রদর্শিত ও অজ্ঞাত আয় দ্বারা পরিচালিত। এগুলোর অদ্যাবধি কোন অডিট হয়নি এবং সরকারকে কোন আয়কর দেওয়া হয়নি। ধরাপড়ার ভয়ে হিসাব দু’টি বন্ধ রাখা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে এ দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যেখান থেকে কয়েক কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশের অপরাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুশীলনের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নূরুজ্জামানের বাল্য বন্ধু শাহিদুর রহমান সুশীলনে কর্মরত থাকা অবস্থায় কেয়ার বাংলাদেশের ফ্রেশ প্রকল্পে জালিয়াতি করে ধরা পড়ে। সে জাল চালান ও ষ্ট্যাম্প তৈরি করে ৯৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাত করে। বিষয়টি কেয়ারের অডিটে ধরা পড়ে। ওই সময় অভিযুক্ত শাহিদুর রহমানকে আইনের আওতায় না এনে তাকে মোস্তফা নূরুজ্জামানের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত করা হয়। একই পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার মক্কেল পরবর্তি আইনী প্রক্রিয়া হিসাবে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবি মল্লিক আল হেলাল।
এ ব্যাপারে সুশীলন প্রধান মোস্তফা নূরুজ্জামানকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপ্না রানী সমাদ্দারের নিকট এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সিনিয়র এডমিন অফিসার কমলেশ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সিনিয়র এডমিন অফিসার কমলেশ বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানাবেন। এরপর থেকে তিনিও আর ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য সুশীলনের ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টুর মোবাইলে বার বার ফোন করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY