চোখ তুলে নেওয়ায় ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
11

খুলনা ব্যুরো : খুলনার খালিশপুর থানার ওসি, ১১ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খালিশপুর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা যোগসাজশে তার ছেলে মো. শাহজালালের দুটি চোখ উৎপাটন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই তাপস রায়, এসআই মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম ও এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী, আনসার সদস্য (সিপাই) আফসার আলী, আনসার ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন, আনসার নায়েক রেজাউল এবং অপর দু’জন খালিশপুর পুরাতন যশোর রোড এলাকার সুমা আক্তার ও শিরোমণি বাদামতলা এলাকার লুৎফর হাওলাদারের ছেলে রাসেল।

মামলায় মোট ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক শহিদুল ইসলাম মামলাটির আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই বাদীর ছেলে মো. শাহজালাল স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুর বাড়িতে আসেন। ওই দিন রাত ৮ টায় শাহজালাল তার শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পার্শ্ববর্তী দোকানে যায়।
এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে কৌশলে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। তার ফিরতে দেরি হওয়ায় খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন।
দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যায়।
কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বজনরা বাসায় ফিরে যান। পরদিন ভোর সাড়ে ৫ টায় তারা থানায় গিয়ে জানতে পারেন শাহজালাল নামে কেউ থানায় নেই। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন শাহজালাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১০ নং ওয়ার্ডের বারান্দায় তাকে দু’টি চোখ উপড়ানো অবস্থায় তারা দেখতে পান।

এ সময় স্ত্রী ও শাশুড়িসহ অন্যান্য সাক্ষীরা বিষয়টি জানতে চাইলে শাহজালাল তাদের জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গাড়িতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখে গামছা ঢুকিয়ে স্কু ড্রাইভার দিয়ে দু’টি চোখ উপড়ে ফেলা হয়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে আসে।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

LEAVE A REPLY