৬৬ পল্লীর প্রচার–‌ব্যানারে অমিতাভ

0
9

৬৬ পল্লী দুর্গাপুজোর প্রচারে এবার বলিউডের শাহেনশা। হ্যাঁ, অমিতাভ বচ্চনকে সামনে রেখেই প্রচারে নামছে দক্ষিণ কলকাতার ওই নামী ক্লাব। তবে সশরীরে কলকাতায় হাজির হচ্ছেন না বিগ বি।

হচ্ছেন না এই পুজোর ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। এই পুজোর সঙ্গে গুজরাট পর্যটন দপ্তর যুক্ত হওয়ার সুবাদে অমিতাভ বচ্চনের এই শহরে আবির্ভাব। গুজরাট ট্যুরিজমের ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। তাই মিলেছে ৬৬ পল্লীর পুজো প্রচারে তাঁর ছবি ব্যবহারের অনুমতি। সেই মতো তৈরি হচ্ছে ব্যানার। গুজরাট পর্যটনের প্রচার ব্যানারে গুজরাটের ‘‌গন্ধ’‌ পেতে ৬৬ পল্লীর পুজো দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে বিগ বি–‌র ছবি দিয়ে। সেই মতো শুরু হয়েছে বলিউডের শাহেনশার ছবি দিয়ে এই পুজোর প্রচার। এই পুজোয় এবারের ভাবনার বিষয় বহুরূপী। বাংলা, বিহার, ওড়িশা বা দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের মতো গুজরাটেও বহুরূপীর প্রচলন আছে। ঢঙ্গী নামে বহুরূপীকে চেনে সেখানকার লোক। বহুরূপীর মণ্ডপ গড়তে ৬৬ পল্লীতে গুজরাটের কালার লিপন, মাতানি পাচেরি ও রোগন শিল্পের ব্যবহার হয়েছে। দুই শিল্পী সুমি ও শুভদীপ মজুমদারের ভাবনায় বর্ণময় বহুরূপীর জীবনের রঙহীন জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কখনও দেবদেবী, কখনও জীবজন্তু রূপে সজ্জিত হয়ে বহুরূপীরা ঘুরে বেড়ায় পথেঘাটে। মানুষকে আনন্দদানের বিনিময়ে হয় সামান্য রোজগার। তাতেই কোনওরকমে চলে ওদের পরিবার। বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে চলেছে বহুরূপীরা।

দুর্গা, অসুর, শ্রীকৃষ্ণ, রাম, বাঘ ও হনুমানকে বহুরূপী হিসেবে দেখা যাবে মণ্ডপে। ত্রিমাত্রিক ছবিতে ফুটে উঠবে ওদের পূর্ণরূপ, পথে–‌ঘাটে–‌ট্রেনে ওদের প্রদর্শন। অর্থনৈতিক কারণে কোনও দামি জিনিস ব্যবহার করার সুযোগ পায় না বহুরূপীরা। মণ্ডপসজ্জাতেও তাই কাজে লাগানো হচ্ছে সস্তার আয়না, হাত পাখা, শীতল পাটির মতো সামগ্রীগুলো। মণ্ডপের ঝাড়বাতিটিও তৈরি হচ্ছে হ্যারিকেনে। পেটের ভাত জোগাড় করতে বাবা–‌মার সঙ্গে শিশুদেরও বহুরূপী বেশে ঘুরে বেড়াতে হয়।
ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ আসে না লেখাপড়ার। তাদের এই রূপও প্রকাশ পাচ্ছে মণ্ডপে। শিবের রূপধারী এক শিশুর দেখা মিলবে মণ্ডপে। তার পা জোড়া শিকলে বাঁধা। মণ্ডপে ঢুকতেই বাঘের রূপধারী এক বহুরূপীর মুখোশ মনে করিয়ে দেবে শ্রীনাথ বহুরূপীর কথা। বহুরূপী মণ্ডপের আবহ সঙ্গীতও শোনা যাবে মানুষের গলায় বাঘের ডাক, বহুরূপীদের ছড়া আর বাজনা। এখানে প্রতিমা গড়ছেন অরূপ পাল। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদ্যুম্না মুখার্জি জানান, বীরভূমের বিষয়পুর গ্রাম থেকে বহুরূপীর একটি দলকে আনা হচ্ছে। দর্শকদের সামনে দুর্গা বিষয়ে শিল্প প্রদর্শন করেন তাঁরা। মণ্ডপে ব্যবহৃত গুজরাটি শিল্পের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে সেখানকার লোকশিল্পীদেরও হাজির করার চেষ্টা চলছে। থাকবে সেখানকার শিল্পসামগ্রী কেনার সুযোগও। অন্যদিকে, এক ছাতার তলায় মিনি ভারতকে খুঁজে পাওয়া যাবে আলিপুর সর্বজনীনে। শিল্পী অনির্বাণ দাসের ভাবনায় যেখানে কাশ্মীরের ডাল লেক থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারীর দেখা মিলবে। থাকছে কুতুব মিনার, সাঁচীস্তূপ, পুরীর মন্দির, হাওয়া মহল, ভারতবর্ষের দর্শনীয় স্থানের অংশবিশেষ। এ দেশের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বাদ্যযন্ত্র, কুচিপুরি নৃত্যদৃশ্য। বুদ্ধদেব, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি, জঙ্গলের জীবজন্তু— অনেক কিছুই দেখা যাবে মণ্ডপের অন্দরে।

LEAVE A REPLY