‘বাংলাদেশের শতকরা ২৩ ভাগ মানুষ ডায়াবেটিসের মুখে’

0
5

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক ২৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ বিরাজমান। গ্রামের তুলনায় শহরের উচ্চবিত্ত পরিবারের মানুষই ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ।

ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানতে পেরেছে।

গবেষণা তথ্য বলছে, তিন দশকের ব্যবধানে ডায়াবেটিসের ব্যাপকতা ধারাবাহিকভাবেই বেড়েছে। ডায়াবেটিস এতই মারাত্মকভাবে ছড়াচ্ছে যে, ১৫ বছরের মধ্যে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে উঠে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে অতিমাত্রায় চিনি, লবণ ও চর্বি জমা হওয়া এবং এর সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকেই রোগের বৃদ্ধি ঘটছে এবং বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা।
শুধু ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বাবদই ব্যয় হচ্ছে বছরে ১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার বেশি।

‘হেলথ অ্যান্ড ইকোনমিক বার্ডেন অব ডায়াবেটিস ইন বাংলাদেশ: অ্যাটেনশন ফর দ্য হায়ার প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক আইসিডিডিআরবি’র ওই গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসায় ব্যয় হয় বছরে গড়ে ২৯৭ ডলার বা ২৩ হাজার ৭০০ টাকা।

২০১৬ সালে ৭ লাখ ৩২ হাজার ৯৩৪ জন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার ৭০৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর ৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৩১ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে, ডায়াবেটিস যেহেতু একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, সে কারণে এর প্রকৃত ব্যয়ের বোঝা সীমাহীন।
আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় ডায়াবেটিক সেন্টার, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডায়াবেটিস নির্ণয়কারী রোগীদের ভিত্তিতে ডায়াবেটিস রোগীদের তালিকা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুতর অসুস্থ না হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না যাওয়ার বিষয়টি খুবই সাধারণ ঘটনা। সে কারণে এ গবেষণায় প্রাপ্ত তালিকার চেয়েও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস একটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগে পরিণত হচ্ছে। সে কারণে সরকারের এখনই জনগণের এ স্বাস্থ্য সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। বাংলাদেশে সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাবের কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে একটি পরিবার দরিদ্র হয়ে পড়ে। কারণ এটি একটি সারা জীবনের অসুস্থতা। আর প্রাপ্তবয়স্করাই এ রোগে বেশি ভোগে।
বিশেষ করে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের হার বেশি, যা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

সে কারণে ডায়াবেটিসের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও জীবনযাপনের মান পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির জন্য সরকারকে অর্থায়ন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের বোঝা কমিয়ে আনা যায়।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বারডেম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. শহিদুল হক মল্লিক বলেন, ডায়াবেটিস যেহেতু একটি লাইফটাইম রোগ, তাই এর ব্যয় থাকবেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও জীবনযাপনের ধরনের ওপর এর ব্যয় নির্ভর করে। রোগী নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে ইনসুলিন ব্যবহারের প্রয়োজন কম হবে, ফলে ব্যয়ও কমবে।

LEAVE A REPLY