লণ্ডভণ্ড হওয়ার ভয়ে কাঁপছে ফ্লোরিডা, সতর্কতা জারি

0
11

দেশ জনতা ডেস্ক: মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা শহর। তছনছ হয়ে যেতে পারে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের বেশ কিছু অংশ। এতে গৃহহীন হতে পারে লক্ষাধিক মানুষ। বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় হার্ভের আঘাত কাটিয়ে উঠতে না উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ভয়াল বেগে ছুটে আসছে আরেক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ইরমা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ইরমার মতো বড় বিপর্যয় ফ্লোরিডার মানুষ আগে কখনও দেখেননি। হার্ভের ত্রাস কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এখন ইরমা আতংক কাঁপাচ্ছে ফ্লোরিডাকে।

সম্প্রতি আমেরিকার টেক্সাস এবং লুইজিয়ানার উপরে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় হার্ভে। ক্যাটগরি-৩-এর এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে মৃত্যু হয় ৫০ জনের। ভেঙে পড়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার বাড়ি। ৯ হাজার বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

হার্ভে হামলার ঠিক পরেই গত বুধবার আবহাওয়াবিদরা পূর্ব অতলান্তিকে আরো একটি ঘূর্ণিঝড় কুণ্ডলী পাঁকাচ্ছে বলে চিহ্নিত করেন।

খুব দ্রুত এই নয়া ঘূর্ণিঝড় আরও বড় আতঙ্কের চেহারা নেয়।

ক্যাটেগরি-৩ থেকে যা এরই মধ্যে ক্যাটেগরির-৫-এর রূপ নিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন।

শুক্রবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়ে ওই ঘূর্ণিঝড় ইরমা।তখন তা ছিল ক্যাটেগরি-৪। সেখানে ধ্বংসলীলা চালানোর পর ফ্লোরিডার দিকে রওনা দিয়েছে ইরমা।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭০ কিলোমিটার গতিবেগে রোববার সকালেই তা আছড়ে পড়তে চলেছে ফ্লোরিডায়।

পূর্বাভাস পেয়েই ফ্লোরিডাজুড়ে লাল সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সূত্রে খবর, স্থানীয় সময় রাত ২টা নাগাদ ইরমার অবস্থান ছিল কিউবার শহর ক্যাবারিয়েন থেকে ১৩৫ কিলোমিটার উত্তরে এবং মিয়ামি থেকে ৪৪০ কিলোমিটার দূরে।

গতিবেগ ২৬০ কিলোমিটার। সময় যত এগোচ্ছে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ইরমা। ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার পর তা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ইরমায় লাল সতর্কবার্তা জারি হওয়ার পরই বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে প্রশাসন।
ফ্লোরিডার ৫৬ লাখ মানুষকে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের ইরমা সম্পর্কে সতর্ক করতে হেলিকপ্টার করে লিফলেট ফেলা হচ্ছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট জানিয়েছেন, ইরমার তাণ্ডব শুরু হয়ে গেলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো যাবে না।তাই যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগেভাগেই তাই বাড়ির জানলা-দরজা কাঠের টুকরো লাগিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। ঘরে জমাচ্ছেন বালির বস্তা। অনেক বেশি করে খাবার এবং জল সংগ্রহ করে রাখছেন তারা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানের ওঠানামাও। শহরের স্কুলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোকে ত্রাণ শিবির হিসাবে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্লোরিডা সরকার। এসব শিবিরে মজুদ রাখা হবে জীবনদায়ী ওষুধ। ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবেন চিকিৎসক।
কীভাবে ফ্লোরিডার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইরমা? নাসার স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সেই ছবি। ভিডিও ইউটিউব থেকে পাওয়া।

আমেরিকার হারিকেন সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর মার্ক ডিমারিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত ইরমার অভিমুখ ফ্লোরিডার দিকেই।
মুখ ঘোরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার ওপর দিয়ে ইরমার সবচেয়ে ভয়ানক অংশটি যাবে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, এসব জায়গায় আটকেপড়া ভারতীয়দের সবরকমভাবে সাহায্য করা হবে।

LEAVE A REPLY