নারায়ণগঞ্জে কলেজ ছাত্র ও শিক্ষনবিশ সাংবাদিক শুভ্র খুন

0
9

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র (২১) নামে এক
কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। সে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের
বিবিএ ৩য় বর্ষের ছাত্র। লেখা-পড়ার পাশাপাশি সে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত যুগের
চিন্তা ২৪ ডটকমে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতো। নিহত শুভ্র সদর উপজেলার
ফতুল্লার লালপুর এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক কামাল উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার ভোরে বাসা
থেকে বের হয়ে নিখোঁজের একদিন পর শনিবার সকালে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে শুভ্র’র
মরদেহ উদ্ধার হলেও রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ একশ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে
লাশের পরিধেয় কাপড় ও জুতা দেখে লাশটি শুভ্রর বলে সনাক্ত করেন নিহতের পরিবারের
সদস্যরা। এদিকে শুভ্রর লাশ সনাক্তের খবর পেয়ে তার সহপাঠী এবং সহকর্মীরা ছুটে যান
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। তাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শুক্রবার ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হলে শনিবার দুপুরে তাঁর বাবা
কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেন।

নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন জানান, বুহস্পতিবার পরিবারের সঙ্গে রাতে খাবার খেয়ে
নিজে রুমে ঘুমাতে যায় শুভ্র। কিন্তু শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় ওকে ডেকে দিতে
গিয়ে তাকে তার রুমে পাওয়া যায়নি। তখন মনে করেছিলাম সে প্রাতঃভ্রমনে গেছে।
কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় তার মোবাইল ফোনে ফোন করলে রিং
হলেও কেউ ফোনটি রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে আবারো ফোন করলে মোবাইল ফোন
বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি পৌনে ৬টায় প্রতিবেশীরা শুভ্রকে
বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আমার
ছেলের নামে কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া যাবে না। খুব শান্ত একটা ছেলে।
কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো না। ওর কোন শক্র থাকতে পারে সেটাও জানি না।
কে আমার এতো বড় ক্ষতি করলো ?।

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকবাশিত দৈনিক যুগের চিন্তার নির্বাহী সম্পাদক এজাজ কোরেশী
বলেন, ঈদের ছুটি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত শুভ্র আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে। পত্রিকা
অফিস খোলার আগে সে টেলিফোনে সম্পাদক আবু আল মোরছালিন বাবলাকে
জানিয়েছিল তার বাবা অসুস্থ। তাই বাবার পাশে থাকার জন্য সে কিছু দিন পত্রিকার
কাজে আসতে পারবে না। সে যুগের চিন্তায় শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে কাজ
করছিল।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, শনিবার নিহতের লাশ উদ্ধারের পর
অজ্ঞাতনামা হিসাবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছিল
২/৩ দিন আগে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের
পাশে ভূঁইগড় এলাকায় একটি ডোবায় ফেলা দেয়া হয়। আর লাশ উদ্ধারের একদিন পর
যেহেতু পরিচয় পাওয়া গেছে তার জন্য হত্যাকান্ডের বিষয় নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম
কাজ শুরু করে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মোঃ শরফুদ্দিন জানান, লাশ
উদ্ধারের সময়ই পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ছিল। কারণ
লাশের হাত-পা বাধা ছিল। গলায় একটি কাপড় পেচানো ছিল। যা দেখে মনে হয়েছে
তাকে শ্বাস রোধে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলে যায় খুনিরা। যেহেতু লাশের
পরিচয় সনাক্ত হয়েছে তাই হত্যার রহস্য উদঘাটনে তেমন বেগ পেতে হবে না। পুলিশ
ইতিমধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে দিয়েছে। উল্লেখ শনিবার সকালে
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের ভুইগড় এলাকায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে শুভ্রর
লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY