থাইল্যান্ডের রূপসী ঠগিনী!!

0
9

দেশ জনতা ডেস্ক:
থাইল্যান্ড কাঁপাচ্ছে এক ঠগিনী। রূপের ফাঁদে ফেলে মোট ১১ জন পুরুষকে বিয়ে করেছে সে। তারপর টাকা পয়সা, গয়নাগাঁটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে। মাত্র দু’‌বছরের মধ্যে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে।

তারমধ্যে এ বছর অগাস্ট মাসেই চারবার বিয়ে সেরেছে। তাঁদের মধ্যে একজন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রথম অভিযোগ করেন। সেখান থেকে খবর ছড়িয়ে পড়তে দেরি হয়নি। তাই নিয়ে উত্তাল সেদেশের সংবাদমাধ্যম। পুলিস তদন্তে নেমেছে। থাইল্যান্ডের বিবাহ প্রথা ভারতের চেয়ে একটু আলাদা। সেখানে বিয়ের সময় স্বামীদের স্ত্রীকে পণ দিতে হয়। সেই প্রথাকে হাতিয়ার করেই ফেসবুকে জাল ছড়ায় ওই তরুণী। পছন্দসই পুরুষদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব করত সে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত। ফুঁসলিয়ে রাজি করিয়ে নিত বিয়ের জন্য। তারপর টাকা নিয়ে পগার পার হয়ে যেত। ১১ জন স্বামীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়েছে সে। কারও কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা হাসিল করেছে। তো কারও কারও কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ। টাকা হাতে পেয়েই নানা বাহানা দেখিয়ে কেটে পড়ত। যেমন, তাঁর পরিবারের ফলের ব্যবসা রয়েছে। তা সামলাতে ব্যস্ত রয়েছেন। অথবা রাশিফলে সমস্যা রয়েছে। এখনই ঘরকন্নার সঠিক সময় নয়। ৩২ বছর বয়সী পি তিয়ামিয়ামকেও এভাবে ফাঁসিয়েছিল সে। পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেসবুকে ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর আলাপ। জারিয়াপোর্ন নাম্মোন বুয়ায়াই বলে নিজের পরিচয় দিয়েছিল সে।

ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আট–ন’‌মাস পর নিজেকে গর্ভবতী বলে জানায় নাম্মোই। বিয়েতে দেরি করেননি তিয়ামিয়াম।
কিন্তু কিছুতেই তাঁকে নিজের মা–বাবার সঙ্গে আলাপ করাতে রাজি ছিল না নাম্মোই। বিয়ের সময় পণ বাবদ ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার হাসিল করে সে।
তার চারদিন পর পারিবারিক ফলের ব্যবসা দেখতে হবে বলে চম্পট দেয়। তারপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিয়ামিয়াম। দিন কয়েক পর নিজেকে নাম্মোইয়ের খুড়তুতো বোন বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে এক তরুণী ফোন করে। বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানায়। এবং নাম্মোইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে নিষেধ করে। বছর ২৮–এর পিরাট পুয়েংসুককেও বোকা বানিয়ে কেটে পরে নাম্মোই। তাঁর কাছ থেকে পণ বাবদ ১৯ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা এবং একটি টয়োটা ট্রাক হাতিয়ে নেয় সে। তদন্তে নেমে ৩২ বছর বয়সী জারিয়াপোর্ন নাম্মোই বুয়ায়াইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তার আসল স্বামীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগকারী ১১ জন ছাড়াও দু’‌জনে মিলে আরও অনেককে ফাঁসিয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে।

পুরুষদের ঠকিয়ে নাম্মোই প্রায় ৫৭ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা হাতিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ইচ্ছা করে কাউকে ঠকায়নি বলে জানিয়েছে নাম্মোই। ১১ জন নয় মোট ৭ জনকে বিয়ে করেছিল বলে দাবি তার।

LEAVE A REPLY