সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচন করার রেকর্ড, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপিও আশাবাদী

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুটি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলেও দলটির নেতারা আশাবাদী- তাদের নেত্রী তিনটি আসনে নির্বাচন করবেন। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া নিজেও নির্বাচন করতে চেয়েছেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। কয়েক দিন আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালতে তার সাত বছরের সাজা হয়েছে।
যদিও দুর্নীতিতে সাজা হওয়ার কারণে আদৌ তার প্রার্থিতা গৃহীত হবে কিনা- তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ ও বিভ্রান্তি রয়েছে। তা হলে কোন ভরসায় খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে চাইছেন?
অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি থাকলেও বিএনপি নেতাদের অনেকে বলছেন, দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার রাজনৈতিক কৌশল থেকে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগের নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের উদাহরণ টেনে নেন।
সাজা হওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হয়েছিলেন।
সেই সময়ের নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ছিলেন এম সাখাওয়াত হোসেন। কমিশন তখন মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল।

বিএনপি নেতারা বলছেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীরের দুই বছরের বেশি সাজা হয়েছিল নিম্নআদালতে এবং তিনি তখন জামিনে ছিলেন। সেটি যখন রিটার্নিং অফিসার বাতিল করল, তিনি আপিল করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে। কমিশনও তার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল। পরে তিনি উচ্চতর আদালতে চেম্বার জাজের কাছে গিয়েছিলেন, চেম্বার জাজ তাকে নির্বাচন করার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। এর পর নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচন করতে দিয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিষয়টিতে ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা থাকলেও তাদের নেত্রী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য হবেন বলেই তারা বিশ্বাস করেন।
তবে খালেদা জিয়ার দুটি মামলারই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি না পাওয়ায় বিএনপি নেত্রীর পক্ষে এখনও আপিল করা সম্ভব হয়নি।
এখন মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ের মধ্যে রায়ের কপি পাওয়া এবং আপিলের সুযোগ কম বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করছেন।
একই সঙ্গে তারা বলছেন, এ ধরনের ইস্যুতে আপিল বিভাগের আগের রায় আছে, সেই রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশনই তাদের নেত্রীকে নির্বাচনে যোগ্য ঘোষণা করতে পারে।
আইনজীবীদের দুরকমই ভাষ্য আছে। যেমন একপক্ষ বলছেন, এটি পারবেন না। আরেক পক্ষ বলছেন, পারবেন। বিএনপি নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, এটি বাধা হবে না। তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। বিএনপি নেতারা একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন, তারা বলছেন-রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পাওয়া পর্যন্ত তারা যদি আপিল করতে না পারেন, সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনও বলতে পারে যে, তারা রায়ের কপি পায়নি।
ফলে কমিশন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। ভিন্নমত বা ভিন্ন ব্যাখ্যা যে আছে, সেটিও বিএনপি নেতারা বিবেচনায় রাখছেন। তবে তারা শুধু নিজেদের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করছেন।
দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, আদালতে পুরনো রায় এবং আগের সংসদগুলোর অভিজ্ঞতার ওপরও ভরসা করছেন তারা।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি- এটি একটি ব্যাখ্যার বিষয়। কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির মামলা যদি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকেন, তা হলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এর সুযোগ নিয়ে বর্তমান সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বা এমপি আছেন।
তিনি আরও বলেছেন, আমরা চাই আমাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং উনিও নির্বাচন করতে চান। সে জন্য মনোনয়নপত্র নেয়া হয়েছে এবং মনোনয়নপত্র দাখিলও করা হবে।