গাজীপুর সিটিতে দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ১৯ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত- অব্যাহতি-নজরদারীতে

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯
0

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ অর্থআত্মসাৎ, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের প্ল্যান পাশ, ফাইল আটকে মেয়র/কাউন্সিলরের নাম ভাঙ্গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা, সহকারি প্রকৌশলীসহ ১৪কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন মেয়র। মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ওইসব তথ্য জানিয়েছেন।
মেয়র জানান, সিটির একাউন্ট ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আৎসাতের অভিযোগে প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, নিয়মবহির্ভূতভাবে নগরী এলাকায় বাসা ও ফ্যাক্টরির ভবন নির্মাণের প্ল্যান ব্যাক ডেটে (পেছনের তারিখ) পাশ করে দেয়ার অভিযোগে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম, ফাইল আটকে মেয়র/কাউন্সিলরের নাম ভাঙ্গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামালকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের সচিব মাহাবুব আলম, ২৪নং ওয়ার্ডের সচিব জহির আলম, ৪২নং ওয়ার্ডের সচিব মোঃ আক্তার হোসেন, ৩২নং ওয়ার্ডের সচিব মাহাবুবুর রহমান, ৩৪নং ওয়ার্ডের সচিব মোঃ নাদিম হোসেন ও ৪৯নং ওয়ার্ডের সচিব মোঃ মুক্তার হোসেনকে ফাইল আটকে মেয়র/কাউন্সিলরের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে চাকুরি হতে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে সিটি করপোরেশনের ৫ কর্মকর্মা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- কর নির্ধারণ কর্মকর্তা আতাউর রসুল ভূ’ইয়া, অফিস সহায়ক সোহেল, কর আদায় সহযোগী কালাম, জমি জরিপ শাখার সাইফুল ও কর নির্ধারণ সহযোগী কামরুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলণে সিটি মেয়র আরো জানান, ট্যাক্স, পানি ও বিদ্যুত শাখার অারো ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য সরকার প্রায় ৭ হাজার ৬’শ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি গাজীপুর সিটিকে গ্রীণ সিটি ও ক্লিন সিটিতে পরিনত করতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে নগরবাসীর সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতি মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন।তিনি বলেন,বহুদিন চিন্তা ভাবনা করে প্লান করেছি, কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে ১৭ টি রাস্তা ৩০ ফিটের মত প্রসস্থ করে কমপ্লিট করেছি, প্রায় ৮ টি খাল খনন করেছি প্রসস্থ ৩০ ফিট গভীরতা ২০ ফিট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যক্রম চলমান, বিদ্যুৎ এর খুটির কাজ চলমান। তবে দুঃখের বিষয় বর্ষা মৌসুমের কারনে কাজের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। খানা খন্দের রাস্তা গুলোর মেরামতের কাজ চলছে। আগামী নভেম্বরের শুরু থেকে সিটির প্রতি ওয়ার্ডে পুরোদমে চলবে কাজ । দৃশ্যমান হবে ২০২১ সালের মধ্যে গাজীপুর সিটি।গাজীপুর মহানগর আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে। একটু ভাবুন এই শহর আপনার, আমার সবার। তাই বিভ্রান্তি হওয়ার কিছুই নাই। যেটা বিগত ৩০ বছরে হয়নি, সেটা ৮ মাসে সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা থাকলে দেশের মধ্যে গাজীপুর হবে একটি অনন্য গ্রীন ও ক্লিন সিটি।

LEAVE A REPLY