অনলাইন শিক্ষায় আগ্রহী নয় শিক্ষার্থীরা

আপডেট: মে ২১, ২০২০
0

ডেস্ক রিপোর্ট:
অনলাইনে পাঠদানের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর দূরশিক্ষণে কোনো আগ্রহ নেই। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যেখানে অনলাইন থেকে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে না সেখানে আরো নিচের দিকে অর্থাৎ কলেজ বা স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার্থীরাতো আরো বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফলাও করে অনলাইনে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের অভ্যন্তরীণ অবস্থা খুবই নাজুক। সম্প্রতি একটি জরিপেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের ওপর পরীক্ষামূলক একটি জরিপ চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে তাদের পাঠ গ্রহণ করতে পারছেন। বাকি ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইনে পাঠকার্যক্রম গ্রহণ করতে পারছেন না। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানেই এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না সেখানে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে কতটুকু সফল হবে সেটি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে কতটুকু শিক্ষা লাভের সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে তার একটি প্রাথমিক জরিপ আমরা করেছি। সেখানে আমরা আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাইনি। শিক্ষা গবেষক ও অর্থনীতির এ অধ্যাপক আরো জানান, অনলাইনে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সমর্থ কি না এমন প্রশ্ন রেখে আমরা গত ৩ মে ঢাবি অর্থনীতি বিভাগের মোট ৫৩৮ জন শিক্ষার্থীকে মেইল করেছি। এর মধ্যে মাত্র ২৩১ জন শিক্ষার্থী ফিরতি মেইলে জবাব দিয়েছেন। আনুপাতিক হারে যা ছিল মাত্র ৪৩ শতাংশ। আবার উত্তরদাতা এ ২৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৭ জন জানিয়েছেন তারা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইনে পাঠ গ্রহণে সক্ষম নন। এখানে ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনকে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমের সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। আর মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে পাঠ গ্রহণে সক্ষম বলে জবাব দিয়েছেন। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষায় আগ্রহী নন।
যদিও করোনার কারণে গত ১৬ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় অনলাইনে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমসহ ভর্তি ও পরীক্ষা নেয়ারও দাবি জানায়। তবে অধিকমাত্রায় বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শুরু থেকেই এ অনলাইন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বন করে। গত ৮ এবং ১১ এপ্রিল দুই দফায় নোটিশ দিয়ে বেসরকারি সব বিশ^বিদ্যালয়কে তাদের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। পরে শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যস্থতায় বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে ৩০ এপ্রিল ত্রিপক্ষীয় ভার্চুয়াল একটি সভায় সীমিত পরিসরে অনলাইনে অতি জরুরি কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
এ দিকে করোনা মহামারীর এ সময়ে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যেতে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশনা দিলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করছে না। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতায় এলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসতে নারাজ। এ অবস্থায় ক্লাস, পরীক্ষা অনলাইনের আওতায় আনতে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে কমিশন।
ইউজিসি সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দূরশিক্ষণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতায় এলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা বাস্তবায়ন করছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি নীতিমালা জারি করা হলে সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনলাইনের শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৬ মে দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যায়ের ভিসি বরাবর মেইল দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ জানান, সব নীতিনির্ধারককে নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও অনেকে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করতে চাইছেন না। অনেকে আবার ছুটির দিনে বাড়তি ক্লাস করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন। তবে আমরা এখন দূরশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি নীতিমালায় রূপ দেয়ার চিন্তা করছি। এ নীতিমালা সরকারি- বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

LEAVE A REPLY