আগাম আলু চাষে মেতে উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের কৃষক

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২০
0

শাহজাহান আলী মনন নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

আগাম আলুচাষাবাদে রোল মডেল ও সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। ঘুরে দাঁড়ানো এ জনপদের মানুষ দু’দশক থেকে আগাম আলু চাষ করে ঈর্ষণীয় সাফল্য ও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

বরাবরের মত এবারও আশ্বিনা বৈরী আবহাওয়ার ঝক্কি ঝামেলা কাটিয়ে আগাম আলুর বাজার ধরার প্রতিযোগিতায় আগাম আলু চাষে মেতেছে উঠেছে কৃষকেরা। কিন্তু এবারে আশ্বিনা বৃষ্টির প্রভাবে সঠিক সময় থেকে প্রায় এক মাস পিছিয়েছে এ উপজেলার আগাম আলু চাষ। তৈরি করা জমি হয়েছে নষ্ট। নতুন করে জমি তৈরি, আলু লাগাতে খরচও হচ্ছে বেশি। শেষ পর্যন্ত আলুর বাম্পার ফলন, সঠিক দাম পেলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশাবাদী চাষীরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমিতে আগাম আউশ-আমন ধান কাটা ও মাড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে আগাম আলু লাগানোর কাজ। এজন্য জমি তৈরিসহ সার প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এ উপজেলার কৃষকেরা অন্য জাতের আলু রোপন না করে ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত যোগ্য সেভেন জাতের আলু বুনছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠে আগাম আলুর চাষে মেতে উঠেছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলুচাষি এজাবুল হক লাল বাবু এবার ১০ বিঘা জমিতে আগাম আলু বুনছেন।তিনি জানান, বাজারে যার আলু যত আগে উঠবে, তার লাভ তত বেশি হবে। তাই আগে ভাগেই আলু লাগাচ্ছি। আগাম জাতের আলু ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করে বিক্রি করা যায়। এজন্যই আগাম আলু চাষে এ উপজেলার কৃষকের আগ্রহ অনেক বেশি।

একই গ্রামের আলু চাষী আব্দুল জব্বার জানান, মৌসুমে আগাম আলুর চাহিদা বেশি থাকায় চড়া দামে বিক্রি করা যায়। এ বছর আলুর বীজের দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি খরচ হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো। আগাম বাজার ধরতে পারলে আলুর কেজি বিক্রি হবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে বিঘা প্রতি খরচ বাদে লাভ হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষী আব্দুল আজিজ (ঢেমশা) জানান, এই অঞ্চলের মাটি বালু মিশ্রিত হওয়ায় হালকা বৃষ্টিপাত হলেও আগাম আলু খেতের তেমন ক্ষতি হয় না। তাই আগাম আলু চাষে কোন ভয় থাকে না।চলতি মৌসুমে তিনি ৪৫ বিঘা জমিতে আগাম আলু বুনছেন।

নিতাই, মুসরুত পানিয়ালপুকুর গ্রামের আলুচাষি শহিদুল ইসলাম বিএসসি গত বছর আগাম আলুতে ভাল দাম পাওয়ায় এবার ৫ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপন করেছেন।

নিতাই বাড়িমধুপুর গ্রামের আলু চাষি আমিনুর জানান,গতবার ধান কাটার পর আগোতে ৪ বিঘা জমিতে (আগাম) আলু নাগেয়া প্রায় অর্ধেক লাভ হইছে সেই জন্য এবারও বুদ্ধিশুদ্ধি করে বেশি করি ভুঁইয়োত (জমি) আগেভাগে আলু নাগাছি।

কৃষি শ্রমিক তরিকুল, মানিকুল, মোস্তাকিম জানান, এখন আশ্বিন কার্তিক মাসে আর অভাব নেই। আগাম আউশ-আমন আর আলুর চাষাবাদ হওয়ায় আমাদের এখন শ্রম বিক্রি করতে বাইরে যেতে হয় না, এলাকায় কাজের অভাব নেই, পারিশ্রমিকও বেড়েছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে আর প্রতিদিন কাজ করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয়-রোজগার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষকগণ জানান, এক সময়ের অভাবী জনপদ হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। এখন বদলে যাওয়া এক জনপদ। এক সময়ে ধু ধু বালুময় প্রান্তর এখন উর্বর জমিতে পরিণত হয়ে এক ফসলি থেকে তিন চার ফসলি জমিতে রূপ নিয়েছে। তবে জেলার অন্য উপজেলার চেয়ে এ উপজেলা আগাম আলু চাষে এগিয়ে। আগাম আলু ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় এবার আগাম আলুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৬৪ হেক্টর জমিতে। কৃষকেরা আগাম ধানে ভাল লাভবান হওয়ায় আগাম আলুতেও বেশি লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকদের সেভেন জাতের আলু রোপনের পাশাপাশি উন্নত জাতের গ্রানুলা, ক্যারোলাস, এলুয়েট জাতের আলু চাষাবাদে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে যেন আলু চাষ করতে পারে এ বিষয়ে আমরা কৃষি সেবা দিয়ে আসতেছি।

LEAVE A REPLY