আজ রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী

আপডেট: মে ৮, ২০২০
0

আজি হতে শতবর্ষ পরেও বাঙালির অন্যতম গর্বের মানুষটা কোথাও যেন অক্লেশে বলে দিয়ে যাবেন শতবর্ষ পরেও তিনি আছেন। তিনি থাকবেন। যতদিন মানব সভ্যতা বিশ্ব জুড়ে বিরাজ করবে, ততদিন বাঙালি মননের শিকড়টা আঁকড়ে ধরে থাকবেন তিনি।

প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ঋদ্ধ করে, অবাক করে হে মহাজীবন তোমার এ নিঃশব্দ অঙ্গিকার চিরদিন ঋণ হয়ে থাকবে। যার সুদ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু কোনওদিন শোধ হয়না।

সেই বাঙালির আপনার রবি ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকীতে এদিন সকাল থেকই জোড়াসাঁকো ছিল রবিময়।

রবীন্দ্রজয়ন্তী বা পঁচিশে বৈশাখ বাঙালি জাতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসব। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ২৫ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্য এবং বাংলাদেশে ও বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে বিপুল উদ্দীপনার সঙ্গে এই উৎসব পালন করা হয়।

রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসব উদযাপনের অঙ্গ হল রবীন্দ্রসংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, রবীন্দ্রনাট্যাভিনয়, রবীন্দ্ররচনাপাঠ, আলোচনাসভার আয়োজন ও নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত ভবনগুলিতে এই সময় বিশেষ জনসমাগম দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রজয়ন্তীর প্রধান অনুষ্ঠানগুলি আয়োজিত হয় কলকাতায় অবস্থিত কবির জন্মস্থান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রসদন এবং শান্তিনিকেতনে।

বাংলাদেশে দেশের সর্বত্র ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হয়। এছাড়া শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ঘিরেও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেডিও এবং টেলিভিশনে সারাদিনব্যাপী প্রচার করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। সকল পত্র-পত্রিকা এ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রমেলার। অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে থাকে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা, নানা প্রদর্শনীর আয়োজন, বই মেলা, সঙ্গীত ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায়ও রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করা হতো। ঘটা করে, সাড়ম্বরে এ দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বাঙালির ভাষা ও সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, মন-মানসিকতা বিকাশে রবীন্দ্রনাথের মহীরূহপ্রততীম অবদানের প্রতি ঋণ স্বীকার করে।

ভোর থেকেই বাঙালি ভিড় জমিয়েছিলেন বাংলা সংস্কৃতির প্রণম্য ভূমিতে। বাঙালির ভাবনার গর্ভগৃহে। শুধু জোড়াসাঁকো নয়, রাজ্যের অলি, গলি, ক্লাব, পাড়া সর্বত্রই রবিস্মরণ পালিত হয়েছে নিজের মত করে। যে মাটি এমন এক সন্তানের জন্ম দিয়েছে তাকে শতকোটি প্রণাম।

হে রবি তোমার জন্মবার্ষিকীতে বাংলায় আজ খুশির বাঁধন বাঁধ ভেঙেছে। কত আনন্দ, কত উৎসব। এসবই তো তোমার জন্য। তোমাকে স্মরণ করে তোমাকে উপহার।

রাজ্যে এখন ভোটের হাওয়া। সেই হাওয়ায় রবি প্রণামে কিন্তু খামতি হলনা। তীব্র গরম আর ভোটের উত্তাপকে হেলায় ছাপিয়ে বাঙালি ২৫ বৈশাখটা কাটাল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। সারা বছরে যতই ভুলে থাক, এই দিনটা ফিরে ফিরে আসে প্রতিবছর।

বাঙালি মেতে ওঠে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। যাঁকে নিয়ে তাদের এত গর্ব। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির গর্বই শুধু নন, বাঙালির অহংকারও। তাঁকে স্মরণে তাই এদিনও ত্রুটি রাখল না তারা।

LEAVE A REPLY