আন্দোলন না করলে মধ্যরাত ভোটের সরকার ক্ষমতা ছাড়বে না- ডা.জাফরউল্লাহ

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২১
0

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা.জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন , গণআন্দোলন না করতে পারলে মধ্যরাতের ভোটের সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। কিন্তু কারা করবে সেই আন্দোলন ? দেশে বিরোধীল বলে কিছু আছে ? বিএনপি তো পারছে না মাঠে নামতে। বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়েও মাঠে নামে না। আজ পর্যন্ত দেখেছেন বিএনপির কিান স্থায়ী কিটির সদস্যকে আন্দোলনে মাঠে থাকতে ? কেউ নামে না।
এমনকি জনবান্ধবমূখি সমস্যা নিয়েও কথা বলে না ।

মঙ্গলবার দেশ জনতা ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে ডা.জাফরউল্লাহ এসব কথা বলেন।

‌ ‘ভরা মৌসুমেেপেয়াজ আমানী প্রসঙ্গে ‘
আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে সরকারের উচিত কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে দেশে পন্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করা। তা না করে সরকার কিছু মন্ত্রী এমপি ও ব্যবসায়ীদের সুবিবধার জন্য পন্য আমদানী করছে। এই ভরা মৌসুমে ভারত থেকে পেয়াজ আমদানী কেন করবে সরকার ? এ লাভ কার ? ভারত নাকি বাংলাদেশের ? আসলে বাংলাদেশের কৃষকরা স্বনির্ভর হোক , খাদ্য ভান্ডারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক তা চায় না একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভারতকে সরকার যত সুবিধা দিচ্ছে সেজন্য ভারত দায়ী নয়। এ দেশটাকে নিয়ে ভারত যতটা না চক্রান্ত করে তার বেশি চক্রান্ত করে বাংলাদেশ সরকার।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে আজ পর্যন্ত সরকার কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারলো না। তিস্তা-গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারলো না। যত সুবিধা নেয়ার সব নিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশকে শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।

একদিকে ট্রানিজিট দিচ্ছে অপরদিকে বিরোধী দলের মুখ বন্ধ রাখার জন্য সুকৌশলে দেশব্যাপী সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে জাষ্ট দৌড়ের ওপর রাখছে। যাতে দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট নিয়ে কথা বলার অবকাশ না পায়। ইস্যুর ওপর ইস্যু চাপা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

জনবিচ্ছিন্ন সরকারের নির্বাচনে যত ভয়, ভয় গণতন্ত্রেও। তাই একতরফা, বির্তকিত প্রহসনের নির্বাচনের পর গণতন্ত্রের মোড়কে আওয়ামী লীগ এখন একটি স্বৈরাচার সরকার। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন, সংবাদমাধ্যমকে স্বৈরাচার সরকার নিজেদের স্বার্থপূরণে ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে খর্ব করার উপযোগী বিধি গ্রহণ করে একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছে। তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতার ’ শতছিদ্র ধারণা এবং তথাকথিত প্রগতিশীলতার মিথের ওপর দাঁড়িয়ে আজ দেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত।

ডা.জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আজ সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে কেনো আমি ভোট দেবো? কেন আমার ভোট চাই? এই দেশের মালিক আমরা। আমরা সবাই মিলে এই দেশের মালিক। তাই যদি হয় তাহলে দেশের পরিচালনায়, শাসনে আমাদের বক্তব্য রাখার অধিকার থাকতে হবে। সমালোচনা করার অধিকার থাকতে হবে। জবাবদিহি করার অধিকার থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে দখল করা ছাড়াই ভারতের সিকিমটট রাজ্যে পরিণত হবে। আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত করা ছাড়া মুক্তির উপায় নাই। বাংলাদেশের গণতন্ত্র না আসার একমাত্র কারণ আওয়ামী লীগ নয় বিরোধী দলও সমভাবে দায়ী।

দেশ জনতা ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা.জাফরউল্লাহ চৌধুরী

‌‌’সিরাম ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে ‘

সিরাম ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে বলেন, উইরোপ যে টিকা ২ ডলার দিয়ে কিনছে আমরা সেই টিকা কেন ৫ ডলারে কিনবো? বাংলাদেশ একটি প্রতারণার স্বর্গরাজ্য, বাংলাদেশ লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ইউরোপে যেখানে ২ ডলার, আমাদের এখানে সাড়ে ৪ ডালার বা ৫ ডলার। ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যয় খুব কম। যদি এক ডলার দাম হয় তাহলে ৪০ টাকা লাভ হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যদি ভ্যাকসিনের দাম দুই টাকা হয় তাহলে আমাদের এখানে ৫ ডলার কেন? কারণ আমরা চুরি করি, দুর্নীতি করি, সেই কারণে ভ্যাকসিনের দাম বাড়ছে।’