এক দশকে আওয়ামী লীগের যেসব শীর্ষ নেতা চলে গেলেন পরপারে

আপডেট: জুলাই ১০, ২০২০
0

সোহেল সানি :

অবশেষে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুনও চলে গেলেন পরপারে। এর আগে গত ১৩ জুন আওয়ামী লীগকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

একদিন পর ১৪ জুন ইহলোক ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেটের প্রথম মেয়র বদরুদ্দীন কামরান। মাত্র ৯ দিনের মাথায় ২৩ জুন আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ। তিনি আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন

২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের দু-দুবারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু দিয়ে শুরু এ মরণযাত্রার। এখন পর্যন্ত একাকীত্বের জীবনসংগ্রামী মহীয়সী নারী সাহারা খাতুনের মৃত্যুই শেষ মৃত্যু। তিনি পরে ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীও ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন।

সাবেক মন্ত্রী জননেতা আব্দুর রাজ্জাক থেকে শুরু করে অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে ৯ জুলাই ২০২০ এই সময়ের মধ্যে পরপারে চলে গেছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, এককালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য চট্রগ্রামের এককালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের এককালীন সাংগঠনিক সম্পাদক বগুড়া-১ আসনের এমপি আব্দুল মান্নান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সিলেটের প্রথম মেয়র বদরুদ্দীন কামরান, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ও দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের দু-দুবারের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের পানি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
আব্দুর রাজ্জাক ক্যান্সার ও কিডনিজনিত কঠিন রোগে আক্রান্ত হবার পর আব্দুল জলিল চিকিৎসার্থে দুই কোটি টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু কোন অর্থকড়িই দিয়েই জনপ্রিয় নেতা আব্দুর রাজ্জাককে বাঁচানো যায়নি। বরং ২০১৩ সালের ৬ মার্চ ইন্তেকাল করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলও। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছিলেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস এর মাত্র দু সপ্তাহের মাথায় ২০ মার্চ ইন্তেকাল করেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। জাতীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দু-দুবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন।
জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল জলিল ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোট ৬ জন। তার মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও বেশকিছু দিন ধরে অসুস্থ। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও লাইফ সাপোর্ট থেকে বেঁচে গেছেন। বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে তুখোড় নেতা এখন আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ। যদিও এই দুই নেতাও প্রেসিডিয়ামে নেই। প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও আব্দুল জলিলের সঙ্গেই ওয়ার্কিং কমিটি থেকে ছিটকে পড়েন তাঁরা। ঠাঁই হয় উপদেষ্টা পরিষদে।
২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দল মহাবিজয়লাভ করলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি পাঁচ নেতাই। আব্দুল জলিল সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও নিশ্চুপ ছিলেন অন্য চার নেতা। সংবিধান সংশোধন খসড়া কমিটির কো চেয়ারম্যান হয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাফল্যে দেখানোয় পুরস্কার স্বরূপ রেলমন্ত্রী হন। কিন্তু ভাগ্যবিমুখ হলে যা হয়। তাঁর এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রীত্বে তিনি দফতরবিহীন হয়ে যান। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত চলে যান মহাপ্রয়াণে।
আব্দুর রাজ্জাক ও আবদুল জলিলের মৃত্যুর পর আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী ও তোফায়েল আহমেদ বানিজ্যমন্ত্রী হন। অবশ্য বর্তমান মন্ত্রিসভায় তাদের ঠাঁই হয়নি। স্থান হয়নি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামেও। মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু কারণে ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক পদটি শূন্য হয়। যে পদে গতকাল নিয়োগ পেয়েছেন আমির হোসেন আমু। ধারণা করা হচ্ছে দলের নেতাদের শূন্যতা পূরণের জন্য অচিরেই আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএ
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের এককালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি ইন্তেকাল করেন। বদরুদ্দীন কামরান মারা যান ২০২০ সালের ১৪ জুন। চট্টগ্রামের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ইহলোক ত্যাগ করেন ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লাও ইন্তেকাল করেন।
১৯৮৭ সালে সাহারা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ১৯৯২ সালে সহআইন সম্পাদক হিসাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ১৯৯১ নির্বাচনে ঢাকার গুলশান- ক্যান্টমেন্ট আসনে পরাজিত হলে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবার পর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই সাহারা খাতুনকে সরকারের সহকারী এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নির্বাচিত করা হয় আইন সম্পাদক। ঢাকার সংসদীয় আসন ৮টি থেকে ১৫টিতে উন্নীত হলে অনেকের মতো ভাগ্য খুলে যায় সাহারারও। ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাহারা খাতুন ২০০৯ সালে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হবার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে দেখান বড় এক চমক।
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
7:56 AM
XMA Header Image
সাহারা খাতুন একাকীত্বের জীবন বেছে নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেন আওয়ামী লীগে! সোহেল সানি সাহারা খাতুন, অবশেষে চলে গেলেন মৃত্যুপুরীর দেশে। তাঁর চিরস্থায়ী ঠিকানায়। কদিন আগে তাঁর মৃত্যুর গুজবের প্রতিবাদ করে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেইসবুকে। উৎসুক গুজব রটনাকারীদের রাশ টেনে ধরার উপায় না থাকলেও নিন্দা করেছিলাম তীর্যক ভাষায়। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করা কোন মানুষের কাজ নয়, গর্হিত অপরাধ, মহাপাপ -ইত্যাদি বলে নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই ভাষা উধাও হয়ে গেলো – মনটা বিষাদ বেদনায় ভরে গেলো। চোখে কান্নার সাঁতার কাটতে শুরু হল, সত্য একটি খবর মুঠোফোনে জানালেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন- বিএমএ এর সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সে খবর অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুর খবর। আজ আর গুজব নয়, সাহারা খাতুন সত্যিই চলে গেছেন মৃত্যুপুরীর দেশে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ভারাক্রান্ত কন্ঠে শোনালেন, ‘সাহারা আপা আর নেই।’ মূহুর্তে থমকে গেলাম- অন্তর আত্মা কন্ঠে ধারণ করলো “ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”। আওয়ামী প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন ছাত্রলীগের এককালীন সভাপতি ও সাবেক এমপি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ও রাজপথের সাহসী সহযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ জালালও ১৬ দিন ধরে করোনাক্রান্ত অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে আজই ল্যাবএইড হতে বাসায় ফিরেছেন। আজ মনটা বেশ তরতাজা ছিলো। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের এক সময়ের কিং মেকার বর্ষীয়ান জননেতা আমির হোসেন আমু ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হওয়ার কারণে। ফোনে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে সাহারা খাতুনের কথাও বললাম। তিনি বললেন, ‘দোয়া করি আল্লাহ তাকে সুস্থ করুন।’ আওয়ামী লীগে মূলত “আমু-নাসিম-পল্টু-সাহারা” শেখ হাসিনার দুর্দিনের দুর্দমনীয় একটা বিশ্বস্ত গ্রুপ বলেই বিবেচিত হয়ে আসছিল। এরপর পরই বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল ভাইকে আমি নিজ থেকেই ফোন দিলাম। তিনি বললেন, ‘আমু ভাই তো মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হয়ে গেলেন, তিনি ভাল করবেন।” তারপর বললাম, লিডার সামনে ভাল খবর আছে – কি খবরও তাও বললাম। তারপর আরও কিছু কথা হলো তাঁর সঙ্গে। কিন্তু সেই ফুরফুরে মনটা নিমিষেই বিষাদ বেদনায় ডুবে গেলো, সাহারা খাতুনের মৃত্যুর খবরে। সবাই আন্দাজ করছিলেন, সাহারা খাতুন হয়ত এমন জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবেন না। কিন্তু তারপরও বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা – তাইতো থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া। বর্ষীয়ান নেত্রী সাবেক মন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে সবাই শোকাভিভূত। বর্ষীয়ান নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টুর মাধ্যমেই সাহারা খাতুনের সঙ্গে পরিচয়। মোজাফফর হোসেন পল্টু যখন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তখন সাহারা খাতুন সহসভাপতি। আমি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং পরবর্তীতে যখন ছাত্রলীগের ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তখন সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন, একটা কাজে গেলে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজটি করে দিয়ে বলেছিলেন, “তুমি আমার কাছে সাংবাদিক নও – তা যত বড় সাংবাদিকই হও, তুমি আমার দলের ভাই, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।” আমি ছিলাম তাঁর স্নেহার্থী। শুভাকাঙ্ক্ষী। তাঁর নিষ্পাপ মুখাবয়ব আমার চোখের আয়নার ভেসে উঠছে- প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠছে তাঁর সুমহান কীর্তিগুলো। রাজপথে পেটোয়া বাহিনীর হাতে ফার্মগেটে তাঁর নির্যাতিত হওয়ার নির্মম দৃশ্য আমি কী করে ভুলি? মোবাইলটা হাতে নিয়ে মোজাফফর হোসেন পল্টুকে কল করলাম। মূহুর্তে রিসিভ করেই বাকরুদ্ধ কন্ঠে বললেন, “আমার নাসিম সাহেবও চলে গেল, সাহারা খাতুনও চলে গেল। সোহেল সানি সাহারা খাতুনের খবর দিবিতো? শুনেছি, মনটা ভেঙ্গে গেল-রে। একে একে সব সহকর্মীকেই যে হারাচ্ছি। ভালো থাকিস সাবধানে থাকিস বলে রাখলেন ফোনটা। ঠিকই বলেছেন মোজাফফর হোসেন পল্টু, তাঁদের সম্পর্কটা তো ঘনিষ্ঠ হবেই। এক সাথে রাজনীতির দীর্ঘপথ হেঁটেছেন। স্বাধীনতাত্তোর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা আর সাধারণ সম্পাদক যখন মোজাফফর হোসেন পল্টু। তখন থেকেই সাহারা খাতুনের নগর রাজনীতিতে সরব পদচারণা। ‘৮৭ সাল থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত মোজাফফর হোসেন পল্টু ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি – সেই কমিটির এক নম্বর সহসভাপতি সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এবং অন্যতম সহসভাপতি সাহারা খাতুন। ‘৯২ সালে মোজাফফর হোসেন পল্টু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনও কেন্দ্রীয় রাজনীতি অবতীর্ণ হন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে সহ আইন সম্পাদক হিসাবে উঠে আসেন। ‘৯১ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় ‘৯৬-এ মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হওয়া সাহারা খাতুন সরকারের সহকারী এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। ‘৯৭ এর কাউন্সিলে হন আইন সম্পাদক। ঢাকার ৮টি আসন ১৫টিতে উন্নীত হলে ভাগ্য খুলে যায় সাহারার। মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে। প্রথম নারী হিসাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে চমকে পরিণত হন সাহারা খাতুন। কদিনের মাথায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নির্বাচিত হন প্রেসিডিয়াম সদস্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে একটা পর্যায়ে সরালেও ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। গত নির্বাচনে বিজয়ী হন। মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও দলের সর্বশেষ কাউন্সিলে আবারও প্রেসিডিয়াম সদস্য। স্বৈরাচার বিরোধী সকল আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারির লড়াকু যোদ্ধা। এজন্য রাজপথে বারবার তাঁকে নিগৃহীত হতে হয়েছে। নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে বিএনপি- জামাত জোট সরকারের দুঃশাসনের আমলে। তাঁর মৃত্যুতে শুধু আওয়ামী লীগে নয় সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ভালো মনের মানুষ ছিলেন। জীবনটাকে উৎসর্গ করেছিলেন এই দেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির কল্যাণে। এ জন্য বেছে নিয়েছিলেন একাকীত্বের জীবন। ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে ছিলেন রাজপথে ও আদালতে বলিষ্ঠ কন্ঠ। আইনজীবী হিসাবে রাখেন বিশিষ্ট ভুমিকা। শেখ হাসিনাও তাঁকে মূল্যায়ন করেন। সাহারা খাতুন সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর এ চলে যাওয়া স্বজনপ্রিয়জনদের জন্য বিষাদ বেদনার। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। হে আল্লাহ মাবুদ! আপনি মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

LEAVE A REPLY