‘এ যেনো ভিনদেশী শত্রুর মোকাবেলায় আবার আমরা এক কাতারে’

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২০
0

‌নিজের দেশে বসে এ যেনো অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা । মনে হলো ভিনদেশী শত্রুর মোকাবেলায় আবার আমরা এক কাতারে। আমরা অবশ্যই পারবো; পারবো নিজের, পরিবারের, প্রতিবেশির, সর্বোপরি গোটা দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ইনশা আল্লাহ- এভাবেই লিখেছেন সিনিয়র সাংবাদিক নয়া দিগন্তের সিটি এডিটর আবু সালেহ আকন। তিনি পেশার প্রতি ভালোবাসায় নিজের জীবন বাজী রেখে প্রতিদিন এই দূর্যোগ মুহূর্তেও অফিস করছেন নিয়মিত। অথচ রির্পোটারদের প্রতি যত্নশীল বলে সবার প্রতি কেয়ার রাখতে তারে অনেক আগেই ছুটি দিয়েছেন বাসায় বসে যে যার সামর্থ অনুযায়ী কাজ করতে।

আজ দুদিন ধরে রাস্তায় দেশের অবস্থা দেখে তার উপলব্ধি ও ভাবনা -চিন্তা তুলে ধরলেন তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেইজে। তার লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো দেশ জনতা ডটকমের পাঠকদের জন্য।

ইদানিং শেষ বেলায় বাসা থেকে বের হই। আগের সেই আড্ডাগুলো শেষ হয়ে গেছে ২৪ মার্চ থেকে। আড্ডার জায়গাগুলো শাট ডাউন হওয়ার পরেও দু’দিন ঘুরেছি। কাউকে না পেয়ে মনে হয়েছিলো অবস্থা ভালো না। স্বভাবটা গোয়ার কিসিমের বলেই প্রথম প্রথম পাত্তা দিতে চাইনি। দুএকদিন স্টাডি করে বুঝলাম অবস্থা ভালো না। এরই মধ্যে টের পেলাম বিশ্ব মোড়লরা শুয়ে পড়েছে একেক করে । মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। সেই থেকেই নিজে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি, অপরকে পরামর্শ দিয়ে চলছি।
সেথেকেই মোটামুটি ঘরবন্দী। ৩টার পরে সোজা গিয়ে অফিসে ঢুকি, আর রাত ৯টার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে সোজা বাসায়। রাস্তায় মানুষজনের আড্ডাবাজি দেখে মনটা বেশ খারাপ হতো। ভাবতাম পরিনতির কথা। মনে হতো এভাবে চলতে থাকলে করোনা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যাবে। অতদূর না ছড়ালেও কম্যিউনিটিতে যে ছড়িয়েছে তা কিন্তু স্বীকৃত। রাস্তার পাশে যে দুএকটি লাশ মেলেনি তা কিন্তু নয়। কিন্তু আশার আলো হলো, দু’দিন ধরে সরকার এখন খুবই কঠোর, মানুষও সচেতন। এটা আরো আগে দরকার ছিলো।

বাসায় আজ আলুর দরকার ছিলো। ভেবেছিলাম অফিসে যাওয়া আসার পথে কিনবো। সেই তিনটার পর বের হয়েও ২ কিলোমিটারের মধ্যে একটি দোকানও খোলা পাইনি। আসার পথেতো মানুষও নেই রাস্তায়। গলির মোড়ে মোড়ে তরুনদের লাঠি হাতে পাহারা। দুরাত ধরে এটা দেখছে। মনে হলো ভিনদেশী শত্রুর মোকাবেলায় আবার আমরা এক কাতারে। আমরা অবশ্যই পারবো; পারবো নিজের, পরিবারের, প্রতিবেশির, সর্বোপরি গোটা দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ইনশা আল্লাহ।

LEAVE A REPLY