কৃষকের আশার আলো লাভজনক পদ্ধতি ‘ভাসমান বেডে ‘ সবজি চাষ

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০২০
0

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী, খুলনা ব্যুরোঃ

খাল না যেনো সবজির বাগান।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মধুগ্রামে ভাসমান বেডে সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। জলাবদ্ধ এলাকাটিতে সময়মত ফসল ঘরে না উঠায় চাষীদের অভাবঅনটন কাটাতে বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিয়েছে ভাসমান সবজি চাষ।

এটা লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। বর্তমানে এ উপজেলার মধুগ্রাম ও হড়হড়িয়া খালে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদফতর ও চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়; মধুগ্রামের মহাসীন সরদার সর্বপ্রথম কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে ২০১৮ সাল থেকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করেন। বেডে সবজি চাষ করে উপজেলার সেরা চাষী হিসেবে কৃষি অধিদফতর থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন লাভজনক দেখে এলাকার হাফিজুর রহমান, ছুরমান গাজী, মাহাতাব সরদার, সলিম মোড়লসহ ২২ জন চাষী ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন। ভাসমানবেড তৈরি করতে পানির ওপরে লম্বালম্বিভাবে দুটি বাঁশ বা কলাগাছ ফেলে তার ওপর সাগর শেওলার স্তূপ করা হয়।

শেওলা পচে শুকিয়ে গেলে তার ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দিয়ে ৫-৭ দিন পরেই লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, ঢ্যাঁড়স, লাউ, শসা, শিম, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন,ডাটা, নালিমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু করেন। ভাসমান সবজি চাষের একেকটি বেড এক মৌসুমের জন্য করা হয়। সবজি চাষ শেষ হলে ওই পচা ধাপ বোরো চাষের আগে জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০ হাত দৈর্ঘ্য ৪ হাত প্রস্থ এবং ৪ হাত উঁচু একটি বেড তৈরি করতে প্রায় সাড়ে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। একটি বেডে ২-৩ বার প্রায় ৫-৬ হাজার টাকার সবজি ও মসলা পাওয়া যায়। এটির অবশিষ্টাংশ জৈব সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

চাষী হাফিজুর রহমান ও মহাসীন সরদার বলেন; উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে ২০১৮ সালে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছি। বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ, বেড তৈরির খরচ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা দেয়ায় এলাকার চাষিদেরও বেডে সবজি ও মসলা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এই কাজে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছি। তাছাড়া চাষিদের উৎসাহিত করে এই চাষের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে মধুগ্রাম ও হড়হড়িয়া খালে শতাধিক বেডে কীটনাশকমুক্ত সবজি ও মসলা চাষ হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন: ধাপের ওপর সবজি চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদের বিনামূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রায় ৫০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০০ টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে, প্রায় ১০০ জন কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণে গোপালগঞ্জ, তেরখাদা এবং ফকিরহাট উপজেলায় নিয়ে দেখিয়ে আনা হয়েছে এবং মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে । ভূমিহীন কৃষক যাদের নিজের জমি নেই তারা এই ভাসমান কৃষির মাধ্যমে একদিকে বীষমুক্ত তাজা সবজি তৈরি করে যেমন পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে অপরদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।