গণতন্ত্রধ্বংসকারী সিইসি নুরুল হুদা মনে করেন দেশের মানুষ বোকা আর তিনি একা চতুর- বিএনপি

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২০
0

বিএনপি বলেছে , গণতন্ত্রধ্বংসকারী নুরুল হুদা মনে করেন দেশবাসী সব বোকা আর তিনি খুব চতুর চালাক। তিনি দেশের মানুষকে নির্বাচন নিয়ে জ্ঞান দেন, অংক শেখান! এই সকল ব্যাখ্যার জন্য সাধারণ মানুষ নুরুল হুদা সাহেবকে অনেক আগে থেকেই বিশ^াস করে না। কারন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তিনি পুরোপুরি কলুষিত করেছেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন।

তিনি আজ অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া এবং বিভিন্ন জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরে এসব কথা বলেছেন।
সৈয়দ সালেহ প্রিন্স বলেন, আমরা আগেই বলেছি-জাতীয় সংসদ ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বোঝায় তা কিছুই ছিল না। ছিল শুধু সরকারী ক্ষমতার দাপট এবং নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের আজ্ঞাবহতা। নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে আওয়ামী লীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঢাকা-১৮ আসনে তাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প নিজেরাই ভাংচুর করে বিএনপি’র ২৩৫ জন নেতাকর্মীর নামসহ অজ্ঞাত আরও শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের করে। গত দুই দিন ও দুই রাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী পোশাকে ও সাদা পোশাকে বিএনপি’র দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়ীতে গিয়ে তাদের পরিবার-পরিজনকে হুমকি দিয়ে আসে, যাতে তারা নির্বাচনের আগে এলাকায় না থাকে, এমনকি কোন কোন নেতার সহধর্মীনি ও সন্তানদেরকে অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখানো হয়, এটা কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না। তারা ক্ষমতাসীন দলের মাস্তানদের মতোই আচরণ করছে। গতরাত থেকে এমনকি এখনও পর্যন্ত গাড়ী বোঝাই করে বহিরাগতদেরকে ঢাকা-১৮ আসনে প্রায় সকল ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসে জড়ো করে বিএনপি’র এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সাধারণ ভোটারদেরকে ভোট দিতে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভোট শুরু হওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যেই নৌকা প্রার্থীর সন্ত্রাসী বাহিনী ২০৩টি ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে বিএনপি’র এজেন্টদেরকে মারধর করে জোরপূর্বক নিয়োগপত্র ছিঁড়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এখন বাকী সকল কেন্দ্র থেকেই বিএনপি’র এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। সেখানে প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএনপি’র এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহায়তা করে। এসব কেন্দ্রের বাইরে নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা পাহারা বসিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বিএনপি’র কর্মীরা প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর হামলা ও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিএনপি’র প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এবং অতি শীঘ্র বের করে দেয়া এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে প্রবেশ করাতে ও সাধারণ ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গতকাল থেকেই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে অস্ত্র উঁচিয়ে বলে আসা হয়েছে-আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাকর্মী ছাড়া বিএনপি ও সাধারণ ভোটার’রা যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়, গেলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের অভিভাবকদের হুমকি দেয়া হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট হলে গুম হতে হবে। আজ ভোর থেকে সিরাজগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে পথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে বিএনপি’র এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে এবং তাদের নিয়োগপত্র ছিঁড়ে ফেলে মারধর করে। এমনকি সাধারণ ভোটারদেরকেও ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়। সন্ত্রাসীদের এইসব বাধা অতিক্রম করে কিছু এজেন্ট ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছালেও আওয়ামী সন্ত্রসীরা বিএনপি’র এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও কেন্দ্রে ঢুকতে প্রচন্ড বাধা দিয়েছে। সাধারণ ভোটার যারা বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে তাদেরকেও ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে এবং তাদের ভোটগুলো সরকারদলীয় লোকজন ইভিএম বাক্সে নৌকা প্রতীকের বাটনে জোর পূর্বক চাপ দিয়ে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে, দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোকে দখলে নিয়ে দেশে মাস্তানতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই মাস্তানতন্ত্রের স্টেক হোল্ডারদেরকে দিয়ে হুন্ডা-গুন্ডা-ডান্ডার নির্বাচন করে পুরো জাতিকে অন্ধকারের অতল গহব্বরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যর্থতায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশন ও প্রশাসনকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

LEAVE A REPLY