দুই বছর পর হত্যা রহস্য উদঘাটন : ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী খুন

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২০
0

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরে ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গজারী বনে পুঁতে রাখে হত্যাকারীরা।

চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকায় প্রতিবেশী দুইজনকে চাচা ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ক্যাপশনঃ গাজীপুরে নিহত গৃহবধূ শিখা আক্তার ও গ্রেফতারকৃত চাচা ভাতিজা

প্রায় দুইবছর পর ক্লুলেস এ খুনের রহস্য উম্মোচন করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- গাজীপুর সিটি কপোর্রেশনের সদর থানাধীন পোড়াবাড়ি পূর্বপাড়া কোনাপাড়া এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মোঃ মোকসেদ আলী (৪২) ও তার ভাতিজা একই এলাকার আলমাছ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮)।

পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর জিএমপি সদর থানাধীন পোড়াবাড়ী পূর্বপাড়া কোনাপারা এলাকার এক গজারী বনের পুকুর পাড়ে কাদা মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া এক নারীর (৩২) অর্ধগলিত বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় সনাক্ত হয়। তার নাম শিখা আক্তার। স্বামী প্রবাসে কর্মরত থাকায় নিঃসন্তান শিখা আক্তার ওই এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার উপর ন্যস্ত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত মোকসেদ আলীকে সোমবার স্থানীয় টেকনগপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাতিজা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে তদন্ত কর্মকর্তা। গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কোদাল এসময় জব্দ করেন পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে হাজির করা হলে তারা চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি আদালতে প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রায় দুইবছর পর চাঞ্চল্যকার শিখা আক্তার খুনের রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদকালে জানায়, মোকসেদ আলীর কাছ থেকে প্রবাসীর স্ত্রী শিখা আক্তার প্রতিদিন দুধ ক্রয় করতেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে শিখা আক্তারের বাসায় আসা যাওয়ার কারণে তার সঙ্গে মোকসেদ আলীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সুযোগে গরু কেনার কথা বলে মোকসেদ আলী দেড়লাখ টাকা ঋণ (ধার) নেন শিখা আক্তারের কাছ থেকে। পরবর্তীতে ঋণের টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সুষ্টি হয়। এর জের ধরে শিখা আক্তারকে কৌশলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাজীর বাগানের গজারী বনের ভিতরে ডেকে নিয়ে যায় মোকসেদ। সেখানে মোকসেদ ও তার সহযোগীরা শিখা আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ বিবস্ত্র করে ঘটনাস্থলের পুকুর পাড়ে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনার প্রায় ১২/১৩দিন পর নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।