গাজীপুরে মাদ্রাসার শিশু ছাত্রকে বলাৎকার ঃ অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২
0

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে মাদ্রাসার এক শিশু ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহানগরীর গাছা থানাধীন ডেগেরচালা এলাকার মঈনুল ইসলাম হামীয়ুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ আবু সায়েম নয়ন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (মোহতারিম) মুন্সিগঞ্জ সদরের জাজিরা এলাকার মোবারক আলীর ছেলে মো: ইসমাইল (৪৪), শিক্ষক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার রাখাল বুরুজ এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শান্ত ইসলাম (২২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার আমিরপুর এলাকার হারুন-অর-রশিদের ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৭) ও ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া এলাকার আজিজুল হকের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২)।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা ভিকটিম শিশুর বাবার বরাত দিয়ে জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ডেগেরচালা এলাকার মঈনুল ইসলাম হামীয়ুস সুন্নাহ মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক শান্ত ইসলাম ওরফে আব্দুর রহমান চকোফান বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার কক্ষে এক শিশু ছাত্রকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে। পরে ভিকটিম শিশুটি তার বাবাকে এ ঘটনা জানায়। ভিকটিম শিশুটির বাবা বিষয়টির প্রতিকারের জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ অন্য দুই শিক্ষককে অবহিত করেন। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে বলাৎকার আলামত নষ্ট করার জন্য কালক্ষেপণ করতে থাকে। কয়েকদিন অপেক্ষার পর প্রতিকার না পেয়ে ১২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) শিশুটির বাবা আবারও শিক্ষকদের কাছে যান। এসময় তারা জানায়, পরীক্ষা শেষ হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপায়ন্তর না পেয়ে ভিকটিম শিশুটির বাবা বাদি হয়ে সোমবার মধ্যরাতে গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপ্রেক্ষিতে গাছা থানা পুলিশ ভিকটিম শিশুটিকে বলৎকার ও সহযোগিতার অভিযোগে ওইরাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ চার শিক্ষককে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

জিএমপি’র গাছা থানার ওসি মো. ইব্রাহিম হোসেন জানান, ভিকটিমের বাবা কোনও প্রতিকার না পেয়ে ঘটনাটি গাছা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ বলাৎকারের এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করতে গেলে ওই মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ তিন শিক্ষক পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন।