গাজীপুর প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিকদের বের করে দিলো ছাত্রলীগ

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১
0


* এ কাজে সহযোগিতা করে মন্ত্রীর ভাগিনা এমপির ভাই
* সিসিটিভি, ফাইলকেবিনেট, চেয়ার-টেবিল ভাংচুর
* পুলিশের নীরব ভূমিকা

গাজীপুর প্রেসক্লাব থেকে অপমান-অপদস্থ করে সাংবাদিকদের বের করে দেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ক্লাবের পূর্বাপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সোমবার সকালে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। উপস্থিত থেকে এ সন্ত্রাসী কাÐে সহযোগিতা করে মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রীর ভাগিনা মাসুদুল হক ও সংরক্ষিত আসনের এক এমপির ভাই ঠিকাদার রাহিম সরকার। এসময় তারা ক্লাবের সিসিটিভি, ফাইল-কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, নির্বাহী কমিটির নামের বোর্ড ভাংচুর ও সভাপতি. সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং দপ্তর সম্পাদকের কক্ষে রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করে। অভিযোগ রয়েছে ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মাসুম বলেন, বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময়ে ক্লাবের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় দিবসসহ কর্মসূচি পালন করা হয়। ক্লাবের এসব কর্মসূচিতে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অতিথি করায় মেয়র বিরোধীরা পূর্ব থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলো। গত ১৯ নভেম্বর মেয়রকে দল থেকে বহিস্কার করার পর মেয়র বিরোধীরা ক্লাবের সামনে একাধিকবার সশস্ত্র মহরা দেয়। ঘটনাটি সদর মেট্রো থানার পুলিশের ইনচার্জকে লিখিতভাবে জানানো হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, হত্যা, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজিসহ আন্তত ২০টি মামলার দাগি আসামী মেহেদী হাসান নাহিদ ওরফে নাহিদ মোড়ল, তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল্লা শাওন, মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রীর সহোদর ভাগিনা কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মাসুদুল হক, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামসুন্নাহার ভ‚ইয়ার সহোদর ছোট ভাই ঠিকাদার রাহিম সরকারের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ক্লাবে প্রবেশ করে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকে খোঁজতে থাকে এবং ক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মারমুখি আচরণ করতে থাকে। এসময় তারা বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে সিসিটিভি, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার টেবিল, কম্পিউটার, নির্বাহী কমিটির নামের বোর্ড ভাংচুর এবং সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদকের কক্ষে রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করতে থাকে। ক্লাবের সদস্য প্রতাপ কুমার গোপ, কোষাধ্যক্ষ কামাল হোসেন বাবুল ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারাসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের অশ্লিল ভাষায় গালমন্দ এবং অপমান-অপদস্থ করে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা।
ঘটনার বিষয়ে মেট্রো সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনা শুনেছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।