চীনকে ঠেকাতে আরো কাছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০২০
0

চীনের ‘আগ্রাসন’ ঠেকাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বার্ষিক আলোচনা ‘২+২ ডায়ালগে’ দুই দেশ স্ট্র্যাটেজিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (বেকা)’ সই করেছে।

এর মধ্য দিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রযুক্তি, সুনির্দিষ্ট স্থান ও আকাশযান পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য এবং গোপনীয় স্যাটেলাইট ডাটা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার চারটি কাঠামো চুক্তির সবটিরই স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে।

এর আগে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া)’, ‘লজিস্টিক সাপোর্ট অ্যাগ্রিমেন্ট (এলএসএ) ও ‘কমিউনিকেশনস ইন্টারোপেরাবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি মেমোরেন্ডাম অব অ্যাগ্রিমেন্ট (সিসমোয়া)’ সই করেছিল। ‘বেকা’সহ ওই তিনটি চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো দেশের সঙ্গে নিবিড় সামরিক সম্পর্কের কাঠামো চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় ‘বেকা’ চুক্তিকে। এই চুক্তির আওতায় যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তা নির্ভুলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনা ও নিবিড় সামরিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকেও ‘জিসোমিয়া’ এবং ‘অ্যাকুইজিশন ও ক্রস সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট (আকসা)’ সইয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেগুলো চূড়ান্ত করতে পারেনি।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ‘বেকা’ ছাড়াও আরো চারটি চুক্তি সই করেছে। এগুলো হলো ‘আর্থ সায়েন্সেস’ বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি, পারমাণবিক সহযোগিতাবিষয়ক ব্যবস্থা সম্প্রসারণে চুক্তি, পোস্টাল সার্ভিসেস চুক্তি এবং আয়ুর্বেদ ও ক্যান্সার গবেষণায় সহযোগিতা চুক্তি।

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক অ্যাসপার চীনের আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বৈঠকের শুরুতেই বিবৃতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে ‘চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া’ ভাইরাস থেকে সৃষ্ট মহামারি (কভিড) মোকাবেলায় সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকি মোকাবেলা থেকে শুরু করে অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা উৎসাহিত করার কথা বলেছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা অনেক ভালোভাবে এগোচ্ছে। যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির বিষয়েও প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনাথ সিং বলেন, আলোচনা হয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়েও। প্রতিবেশী দেশগুলোতে সক্ষমতা সৃষ্টি এবং এর বাইরেও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র এলাকায় ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ও আইনের শাসনের বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক অ্যাসপার বলেন, বিশ্ব মহামারি ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
এই অঞ্চলে ও বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারি জোরদার করেছে। দুই দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্য বিনিময় করছে। এটি উন্মুক্ত, স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তিনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক অ্যাসপার ভারতের জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে গালওয়ান উপত্যকায় শহীদ ২০ ভারতীয় বীর সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে আছে। উভয় দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকির মুখে পড়ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি, আন্ত সীমান্ত সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

জয়শঙ্কর বলেন, আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। সেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সব দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ওপর উভয় পক্ষ জোর দিয়েছে।

LEAVE A REPLY