চোরাই গাড়ীর ব্যবহার করছেন আর এমপির এস আই ও কনস্টেবল

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২১
0

রাজশাহী মেট্রোপলিটন
পুলিশের তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ
রানা ও পুলিশ কন্সটেবল জামিল আহম্মেদের
বিরুদ্ধে চোরাই গাড়ী ব্যবহারের অভিযোগ
উঠেছে। এছাড়া মাদকসহ আসামী ধরে ছেড়ে
দেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে এই দুই পুলিশ
সদস্যের বিরুদ্ধে।
কন্সটেবল জামিল দীর্ঘদিন ধরে এই পুলিশ ফাঁড়িতে
কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রাইভেট কার ও পালসার
মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। যদিও পরে তিনি
প্রাইভেট কারটি তিনি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার
কাছে বিক্রি করেছেন। এসআই মাসুদ রানা কারটি এখন
ব্যবহার করছেন।
জামিল দীর্ঘদিন যাবত এক ফাঁড়িতে থাকার সুবাদে
সবকিছুই তার চেনা ও জানা। সেই সুযোগকে কাজে
লাগিয়ে মাদক কারবারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে
তুলে হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ এমন অভিযোগ
রয়েছে দীর্ঘদিনের। তারপরও এই কন্সটেবল
সেই ফাঁড়িতেই কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে ফাঁড়ির ইনচার্জের সাথে সখ্যতা
তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের নথি অনুযায়ী এসআই মাসুদ রানার নিজ জেলা
সিলেট। এসএসসি পাশ করে ২০০০ সালের ২১
সেপ্টেমবর চাকুরীতে যোগদান করেন। তাঁর
বিপি নং-৮৬০০০০২৩৩৩।
আরএমপিতে যোগদান করেন ২০১৩ সালের
পহেলা জানুয়ারীতে। বর্তমান কর্মস্থল তালাইমারী
পুলিশ ফাঁড়িতে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারীতে
যোগদান করেন।
আরএমপিতে তিনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা,
শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নিজ জেলা সিলেট হলেও ,বর্তমানে তার নিজ
জেলা লালমনিরহাট বলে জানিয়েছেন।
পুলিশে ভর্তির ঠিকানা এক এবং নিজে বলেন অন্য
জায়গায়। এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
তাহলে তার আসল ঠিকানা কি? অনেকের মনেই
প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে মাসুদ রানা যেকোন
ধরণের জালিয়াতির আশ্রয়ে চাকুরীতে যোগদান
করেছেন?
অনুসন্ধানেআরো জানা গেছে, তালাইমারী পুলিশ
ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকেই তিনি
বেপরোয়া হয়ে উঠেন। মাদক ব্যবসায়ীদের
সাথে সখ্যতা তৈরি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ।
উদ্ধর্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি
কন্সটেবল জামিলের সহায়তায় এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে
যাচ্ছেন।
সম্প্রতি তিনি, ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৯০৭৬ নম্বরের
একটি প্রাইভেট কার কন্সটেবল জামিলের কাছ
থেকে কিনে ফাঁড়িতে রেখেছেন। গাড়ীটি তিনি
তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকায় কিনেছেন বলে দাবি
করেন। সেই গাড়ীতেই মাদক বহন করে থাকেন
এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার
সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার
বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সত্য নয়। আমি প্রাইভেট
কারটি কন্সটেবল জামিলের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকায়
কিনেছি। প্রাইভেট কারটি এখন আমার। এসআই মাসুদ
রানা নিজের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানায়
বলে স্বীকার করেছেন। (যার অডিও রেকর্ড
সংরক্ষিত) কিন্ত চাকুরীর নথিতে তার বাড়ি সিলেট
বলে উল্লেখ রয়েছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির এক পুলিশ
সদস্য জানান, গত ২৭ নভেম্বর নগরীর ভদ্রা
জামালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হবি নামের গাঁজা
ব্যবসায়ীকে আটক করে তালাইমারী ফাঁড়ির
এএসআই মুকুল ও কনষ্টবল জামিল। কিন্তু মামলা না
দিয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে
আসামীকে ছেড়ে দেয় এবং উদ্ধার গাঁজা বিক্রি
করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক অন্যান্য পুলিশ
সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির
কন্সটেবল জামিল আহমেদ্দের বাড়ি ভোলা
জেলায়। তাঁর কং,নং-৩৫৬, বিপি নং-৯০০৫১০১০৫২। মাদ্রাসা
থেকে দাখিল পাশ করে ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল
পুলিশে যোগদান করেন। পরে ২০০৭ সালের ১
ফেব্রুয়ারি আরএমপিতে যোগদান করেন। ২০০৭
সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি একই ফাঁড়িতে কর্মরত
রয়েছেন। তার বাড়ি ভোলা জেলা হলেও তিনি
আশেপাশের জেলায় বাড়ি বলে জানান।
তার উপরও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা তৈরি ও
চোরাই প্রাইভেট কার ব্যবহারের অভিযোগ
উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ঢাকা মেট্রো-গ
১২-৯০৭৬ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার
করছেন। এটি তিনি কিনেছেন বলে প্রচার
করলেও, কারটি কাছে কত টাকায় কিনেছেন তা তিনি
জানাতে পারেনি।
বিআরটিএতে এই গাড়ী নম্বরের গাড়ীর মূল মালিক
কে, তা জানার জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্ত এই নম্বর
সার্ভারে নেই। অথচ তিনি জানিয়েছেন, গাড়ীটি তিনি
কিনে নিয়েছেন। যদি গাড়ী কেনেন তাহলে
সেই গাড়ীর নম্বর সার্ভারে নেই কেন এমন
প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে খোদ পুলিশ মহলে।
অনেকের প্রশ্ন তাহলে গাড়ীটি কি চোরাই ,নাকি
অন্য কারো।
সূত্র বলছে, এই প্রাইভেট করে করে মাদক
ব্যবসায়ীদের হয়ে মাদক বহন করা হয়। তদন্ত ও
নজরদারি করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসতে
আসবে।
শুধু প্রাইভেট কার নয় তিনি ঢাকা মেট্রো-হ ১৪-৭৩৫৩
নম্বরের একটি পালসার মোটরসাইকেল ব্যবহার
করছেন। এটি তিনি কোথা থেকে কিনেছেন তা
বলতে পারেননি।
বিআরটিএতে এই গাড়ী নম্বরের গাড়ীর মূল মালিক
কে তা জানার জন্য চেষ্টা করা হয়। বিআরটিএর তথ্য
অনুযায়ী এই গাড়ীতে ব্যবহৃত নম্বরটি একটি হিরো
হোন্ডা লাল মডেলের মোটরসাইকেলের
নম্বর। অথচ তিনি এটি পালসার মোটরসাইকেলে
ব্যবহার করছেন।
এমনকি নম্বরটি একটি কোম্পানীর নামে
রেজিস্ট্রেশন করা।
তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ির কন্সটেবল জামিল আহম্মেদ
এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই
গাড়ীটি এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কিনেছি। বড়
ভাইয়ের নাম জানতে চাইলে বলেন, নেহান।
নেহানের বাড়ি রাজশাহীতে। সে বিকাশে চাকুরী
করে । বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি
সিরাজুম মনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি
বলেন, বিষয়টি তার জানা নাই।
যদি সে কোন ক্রাইম বা ফৌজদারি অপরাধ করে
তাহলে আমার দেখার দায়িত্ব।
তবে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধিনস্থ কেউ
যদি অপরাধ করে তাহলে গোপন প্রতিবেদন দেয়া
যেতে পারে। ডব্লিউ সি আর (উইকলি
কনফেডেন্সিয়াল রিপোর্ট) এর মাধ্যমে সাপ্তাহিক
গোপনীয় প্রতিবেদন দেওয়া যেতে পারে।
এমন রিপোর্ট দিলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ
অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারবে।