ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত ৩ জন শ্রমিক পরিবারের সাথে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সাক্ষাৎ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

আপডেট: আগস্ট ১, ২০২২
0

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে : অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেছেন, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। এই সকল শ্রমিকরা সকল অধিকার ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের সাহায্যার্থে কেউ এগিয়ে আসে না। এই সকল শ্রমিকদের পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

তিনি আজ বাগেরহাটে ফেনীতে কর্মরত অবস্থায় সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত তিন ভাই আবদুর রহমান মুন্সি, নুরুল ইসলাম মুন্সি ও মনিরুজ্জামান মুন্সি-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন ও ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য তাদের হাতে তুলে দেন। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসাইন, বাগেরহাট জেলার উপদেষ্টা এডভোকেট ইউনুস, ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাহাত।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেন, দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের চিকিৎসা হতে শুরু করে যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা ছিল রাষ্ট্রের। কিন্তু আমাদের দেশে কল্যাণকামী সরকার না থাকার কারণে শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইসলাম বলে মালিক শ্রমিক ভাই ভাই। রাষ্ট্র উভয়ের মাঝে সম্বনয় সাধন করবে। উভয়ের কল্যাণ ও উন্নতি করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট থাকার কথা। কিন্তু দেশে ইসলামী সরকার ও শ্রমনীতি না থাকার কারণে শ্রমিকদের দুর্দশার অবসান হচ্ছে না।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান নিহত শ্রমিকদের কবর জিয়ারত করেন। মরহুমদের নেক আমল সমূহ কবুল করে তাদেরকে জান্নাতুল ফেরেদৌস দান করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বিশেষভাবে দোয়া করেন। একই সাথে আত্মীয়স্বজনকে ধৈর্য ধরার শক্তি দান করার জন্য দোয়া করেন।

উল্লেখ্য ফেনী শহরের নাজির রোডে আনোয়ার উল্লাহ সড়কে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২৬ জুলাই (মঙ্গলবার) সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে তিন ভাই নিহত হোন। তাদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলায়। তারা সবাই পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।