ডিআইজি মিজানের চেয়েও কি সাংবাদিক গাজীর সামাজিক মর্যাদা কম ?

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১
0

সাকিব এ চৌধুরী:

সম্প্রতি কারাগারে আটক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের(একাংশ) সভাপতি বীর মুক্তিযাদ্ধা রুহুল আমিন গাজীকে হাতকড়া পড়িয়ে রশিতে বেঁধে আদালতে হাজির করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককেই ।

রুহুল আমিন গাজীর মতো একজন সিনিয়র সাংবাদিক নেতাকে এভাবে কারাগারে হাজির করানো বড়ই বেমানান । সব আসামীর ক্ষেত্রেই যদি এই চিত্রের দেখা মিলতো তাহলে হয়তোবা এই বিষয়টি নিয়ে কথা উঠতো না । কিন্তু একটা অংশের ক্ষেত্রে যখন পুলিশকে এই রকম কঠোর হতে দেখা যায় না তখন রুহুল আমিন গাজীর ক্ষেত্রে এই কঠোরতা দেখে অবশ্যই প্রশ্ন জাগে ও ক্ষোভ জন্মায় ।

ক দিন আগেই গনমাধ্যমে খবর বেড়িয়েছে সাবেক ডিআইজি মিজানুর রহমান মিজান কারাগারে হাজিরা দিতে এতে ডিআইজি মিজান গনমাধ্যমের উপর চড়াও হয়েছেন । সেদিন তার দিকে তাকালে দেখা যায় স্বাভাবিকভাবে পুলিশী পাহারায় হাতকড়া ছাড়াই আদালত প্রাঙ্গনে চলছেন তিনি । এক্ষেত্রে প্রশ্ন তুললে হয়তোবা দায়িত্বশীল মহল থেকে জবাব মিলবে আসমীর সামাজিক মর্যাদার বিষয়টির দিখে খেয়াল রেখে এমনটি করা হয়েছে ।

ভাল কথা । পূর্বেও আইন অনেক ক্ষেত্রে অনেকের বেলা এমন নমনীয়তা দেখিয়েছে কিন্তু একজন রুহুল আমিন গাজীর সামাজিক মর্যাদা বরখাস্ত ডিআইজি মিজানের চেয়ে কম কোন দিক দিয়ে ? একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যাকে সারাদেশের মানুষ এক নামে চিনে তার পক্ষে কি কারাগার প্রাঙ্গন থেকে শক্তি প্রয়োগ করে পালানো সম্ভব কি এবং তিনি এমন কর্মকান্ড করবেন, তা তো পাগলও বিশ্বাস করবে না । কিন্তু তার পরেও এমনটি ঘটানো হলো ।

এরকম বিষয় নিয়ে যে কথা পূর্বে হয় নি তাও নয় । নিকটতম অতীতে সাংবাদিক কাজলকে যেদিন ‘উদ্ধার’ করা হয়েছিল সেদিনও ঠিক একই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল এবং এরপর এই ঘটনা নিয়েও গনমাধ্যম ও সামাজিক যাগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে ।

এই প্রতিবাদের পর অনেকের প্রত্যাশা ছিল এরপর হয়তোবা তুচ্ছ ও অনির্ভরযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সাংবাদিককে পুলিশী হেফাজতের সময় হাতকড়া পড়োনা হবে না । কিন্তু সাংবাদিক গাজীর মতো ব্যাক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টি মানা হলো না ।

রুহুল আমিন গাজীর শারীরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পুলিশকে এইরকম পদক্ষেপের আশ্রয় নিতে হবে এটা মানুষ নিশ্চয়ই মনে করে না । অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যের একান্ত ইচ্ছের প্রতিফলনে এরকম ঘটেছে বলে বিশ্বাস করে এটাও বলতে চাই এইরকম আচরণ বেশ খারাব নজির সৃষ্টি ও জনমনে ক্ষোভ তৈরী করে ।

তাই উচ্চ মহল থেকে এই রকম ঘটনা যাতে কোনো আমলেই না ঘটে তার একটা কড়া বার্তা মাঠ পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন । আর এই রকম আচরনের মধ্য দিয়ে কেউ ভিন্নমতকে কোনো বার্তা দিতে চায় তাহলে তাদেও এটাও জেনে রাখা প্রয়োজন যে, যুগে যুগে মুক্তিকামীরা এসবের ভয়ে কখনই লুকিয়ে ছিল না এবং থাকবেও না ।

লেখক : চীন প্রবাসী ।