ঢাবিতে ফেসবুক পোস্টের কারণে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধর

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২১
0

গেস্টরুম বন্ধ হওয়ার পর ‘ঈদ মুবারক’ লিখে পোস্ট দেয়ায় আবারো মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এফ রহমান হলের ৩ জন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ফেসবুকে ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম বর্ষের সবাইকে পুনরায় গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ এবং পরে ৩ জনকে সিনিয়ররা বেধড়ক মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জিওগ্রাফি এন্ড ইনভেরোনমেন্ট বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী লালন হোসাইনের নেতৃত্বে একই সেশনের মার্কেটিং বিভাগের আরিফুল ইসলাম আরিফ, আসিফ হোসাইন, ও মিউজিক বিভাগের ওয়াজিদ তাওসিফ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারী ও হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাজুর ছোটভাই হিসেবে পরিচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাজু ভাই গেস্টরুম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এটা নিয়ে খুশি হয়ে ফার্স্ট ইয়ারের ইমন, রুবেল হোসেন ও আল আমিন ফেসবুকে ‘ঈদ মুবারক’ এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরপরে রাত ১০টায় ১ম বর্ষের সবাইকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে প্রথমে সবাইকে গালাগালি করার পর লালন হোসাইন ১ম বর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর বাকিদের বের করে দিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আল আমিন, রুবেল হোসেন ও ইমনকে রেখে রাত ১২টা পর্যন্ত মারধর করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, আমাদের হলে এ রকম কোন ঘটনা রাতে ঘটেনি। আপনারা চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। এ রকম ঘটনা আমাদের হলে অসম্ভব।

লালন হোসাইন নয়া দিগন্তকে জানান, ‘এফ আর হলে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। আপনারা ইনভেস্টিকেশন করুন, তাহলে ঘটনার সত্যতা জানতে পারবেন। তবে আমি আবারো বলছি, এ হলে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।’

ঘটনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাজু বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি জানতাম না। কিছুক্ষণ আগেই এ সম্পর্কে জেনেছি। কেন তারা এটি করলো তা আসলে আমি বুঝতে পারছি না। আমি সবার সাথে বসেছিলাম, প্রথম বর্ষের কেউই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে না, আবার দ্বিতীয় বর্ষের কেউও এসব স্বীকার করতে চাচ্ছে না। আমরা তবুও সবাইকে সাবধান করে দিয়েছি যাতে এ রকম ঘটনা আর না ঘটে।’

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটা শুনেছি, ছাত্রলীগের কেউ যদি নীতিবিরোধী ও সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজ করে তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাজু গেস্টরুম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গেস্টরুম বন্ধ হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে ‘ঈদ মুবারক’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট দেন।