নব্য ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা’র বিরুদ্ধে বিবেক জাগ্রত হোক

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২০
0

ওয়াসিম ইফতেখারুল হকঃ

আপনি আমি বা কেউ চাইলে কি যেকোনো নামে কোন প্রতিষ্ঠান করতে পারি! ধরুণ আমি প্রেসিডেন্ট জিয়া কে পছন্দ করি। তো আমি চাইলে প্রেসিডেন্ট জিয়া রাইস মিল বানাতে পারবো? আমি আপনি চাইলেই কি মাওলানা ভাসানী ডেকোরেটর সার্ভিস বা পরিবহন মন্ত্রী টেম্পু সার্ভিস নামে কোম্পানি প্রতিষ্টা করতে পারবো?

না পারব না। কারণ নামকরণের আইন আমাদের সেই অনুমতি দেয় না। যে সব নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করা বা বাড়তি সুবিধা আদায় করার সুযোগ থাকে সেসব নামকে রেজিষ্ট্রেশন দেয়া হয় না।

সামান্য ফেসবুকের নামকরণের নিয়ম দেখুন। আপনার আইডির নাম চাইলেই জেনারেল বার্নার্ড মন্টগোমারি বা ডেজার্ট ফক্স জার্মান সেনাধ্যক্ষ আরউইন রোমেল নাম নিজে নিতে পারবেন না। জেনারেল জ্যকোব, মেজর জেনারেল টিক্কা খান, ফিল্ড মার্শাল জোসেফ ব্রোজ টিটো বা সাইন্টিষ্ট আইনিষ্টাইন লিখতে পারবেন না। ফাঁক তালে করে ফেললে ঐ নাম চেঞ্জের জন্য একটা অথেন্টিক রিপোর্ট যথেষ্ট।

রাষ্ট্র’র প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার বা ঐ ধরণের অগ্রাধিকার প্রাপ্তদের নাম ব্যবহারে অনুমতি দেয়া হয় না, সামাজিক ন্যায় নীতির স্বার্থে। সুবিধাবাদীদের যতটা সম্ভব দূরে রাখতে। টাউট বাটপার’রা অবলা আবাল মানুষরে ভুল যেন বুঝাতে না পারে সেজন্য।

এই একই কারণে নীতিবান রাষ্ট্র নায়ক’রা আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। ক্ষেত্র বিশেষে বঞ্চিত করেন; বঞ্চিত করেন বৃহত্তরভাবে মিস ইউজ বন্ধ করার জাতীয় স্বার্থে।

আমাদের দেশও এই নিয়মের উর্ধে নয়। আবার এও ঠিক আমাদের দেশে ধুরন্ধর মালের সংখ্যা একটু বেশীই। আইনের ফাঁক খুঁজে অপব্যবহারের হার-ও বেশী।
সেকারণে আমরা প্রজন্ম ৭১, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ ধরণের নামকরণ করে রাজনীতি করতে দ্বিধা করিনা। এসব নাম আইনত ভিত্তিহীন নয় কিন্তু আইনের মূল স্পিরিটের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কারণ আমাদের সেরা অর্জন মুক্তিযুদ্ধ-কে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ কে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ব্যবহার মানে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা। ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলা যেমন অন্যায় তেমনি দেশের আবেগ নিয়ে খেলাও অন্যায়।

অন্যদিকে আরো ভয়ংকর চিত্র আছে বানিজ্যিক ক্ষেত্রে। ২১শে টিভি, ২১ শে রেস্তোরাঁ বা একাত্তর টিভি বা ৭১ টাওয়ারের মত বানিজ্যিক কোম্পানিগুলো আমাদের কেন্দ্র মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের আবেগকে ব্যবহার করে বানিজ্য করছে। এসব কাবুলিওয়ালাদের এসব নাম ব্যাবহারের অধিকার আসে কোথা থেকে?

আমি ফ্যাসিবাদের কাছে কোন দাবী তুলে নৈতিক ওয়াক ওভার দিতে রাজি না। আমি খুব করে চাইবো বাংলাদেশ-পন্থী সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিগুলো রুখে উঠুক। জাতীয় অর্জন গুলোর মাথায় কাঠাল ভেঁঙে নব্য ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা’র বিরুদ্ধে বিবেক জাগ্রত হোক।।

( এই লেখার জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)

LEAVE A REPLY