নারায়ণগঞ্জে কলূষিত হচ্ছে ছাত্র রাজনীতি অপকর্মে ছাত্রলীগ : ছাত্রদলে কোন্দল

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০২০
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : মহান স্বাধীণতা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রাজনীতির সূতিকাগার হিসাবে পরিচিত এ নারায়ণগঞ্জে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা সবসময় থাকতো উপরের সারিতে। কিন্তু কালের আবর্তে ও পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রেখে এখন বদলেছে ছাত্র রাজনীতির সেই দৃশ্যপট। বর্তমানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোতে বাড়ছে কোন্দল, অনেকে আবার জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে।
ছাত্রলীগ সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই একযোগে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে তৎকালীণ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এদিন ১৮৮ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রলীগের এক জাম্বু কমিটি গঠন করা হয় যাতে সভাপতি করা হয় আজিজুর রহমান আজিজকে ও সাধারণ সম্পাদক করা আশরাফুল ইসলাম রাফেলকে। একইদিনে হাবিবুর রহমান রিয়াদকে সভাপতি ও হাসনাত রহমান বিন্দুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিও গঠন করা হয়।০
ছাত্রদল সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ জুন মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও খায়রুল ইসলাম সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি এবং শাহেদ আহমেদকে সভাপতি ও মমিনুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানা যায়, জেলা-মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীরা। অনেককে দেখা গেছে ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতে। কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন জাল দলিল ও ষ্ট্যাম্প সহকারে। এছাড়া জুয়ারী বড় শাহজাহানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসন খোঁজ পেয়েছিলো ছাত্রলীগের এক টর্চার সেলের।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানা যায়, আংশিক কমিটি গঠনের পর ২ বছর সময় অতিবাহিত হতে থাকলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জেলা-মহানগর ছাত্রদলের নেতবৃন্দরা। এছাড়া মাঝে মাঝে বিভিন্ন থানা ও ইউনিট কমিটি গঠন করা হলেও সে কমিটিগুলোর বিরোধ করে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হয় জেলা ও নগরীতে। সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের ৮টি ইউনিট কমিটি গঠন করা হলে কমিটিগুলোর বিরোধীতা করে তুলকালাম কান্ড ঘটনো হয়। এতে ৫ দিন যাবৎ জেলা ছাত্রদলের সভাপতির কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ছাত্রদলে কোন্দল চরমে উঠেছে বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, আগে ছাত্ররাজনীতি থেকেই উঠে আসতো বড় বড় নেতাকর্মী। পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রাম গুলোতে ছাত্রনেতারাই দিতো নেতৃত্ব। তখন যাচাই বাছাই করে কর্মী নিতো দলগুলো। কিন্তু এখন আর কোনো রকম যাচাই বাছাই করা হয় না। অমুক নেতা, তমুক নেতার তদ্ববিরেই কমিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীণ হয়ে যায় অনেকে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই ছাড়া দলে যোগ দেয়া এসব নেতাকর্মীরাই বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে নিজ নিজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে বলেও মনে করেন তারা। তাই পূর্বের ন্যায় যাচাই-বাছাই ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ছাত্র সংগঠনগুলোতে কর্মী বাড়ানোর দিকে তাগিদ দেন তারা।

LEAVE A REPLY