নারায়ণগঞ্জে জাপার এমপি খোকার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ আ’লীগ নেতাকর্মীদের

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২০
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় জিআর ইন্সটিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে জেলা পরিষদ কর্তৃক উন্নয়ন কাজের নামফলক ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ এনে সোনারগাঁয়ের স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে বিশাল মানববন্ধন করেছে মহানগর আ’লীগ। গতকাল শনিবার বিকেলে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকে ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা এবং ভেঙ্গে ফেলা নামফলকটি পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় উদ্ভূত যে কোন পরিস্থিতির জন্য এমপি নিজেই দায়ি থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে এমপি খোকার কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এদিকে সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ কর্তৃক উন্নয়ন কাজের যে নামফলকটি ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম ছিল। আনোয়ার হোসেন একই সঙ্গে মহানগর আ’লীগের সভাপতি।
মহানগর আ’লীগের সহ সভাপতি শেখ হায়দার আলী পুতুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আ’লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, আহসান হাবিব প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আ’লীগ শুধু একটি দলই নয়, বরং একটি অনুভূতির নাম। আর নারায়ণগঞ্জে সেই অনুভূতি হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের আ’লীগকে সুসংগঠিত করতে আনোয়ার হোসেনের অনেক অবদান রয়েছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিজে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়ে পুরো জেলা উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ে ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিআর ইন্সটিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে ২০ লাখ টাকা উন্নয়ন কাজ করেছেন। সেই কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে স্কুলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নামফলক লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেই নামফলক ভেঙ্গে পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপরই আঘাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ব্যক্তিকে অপমান করলে সেটি কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। তিনি সোনারগাঁয়ের ঘটনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণার দাবি জানান। সেই সঙ্গে ভেঙ্গে ফেলা নাম ফলকটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, গত ১৭ নভেম্বর স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজের নামফলকটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর ৪দিন পেরিয়ে গেলেও জেলা পরিষদ থেকেই এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনার জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি জেলা পরিষদ থেকেও ওই ঘটনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। সেটি কাউকে করতে দেওয়া হবে না। তিনি ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য লিয়াক হোসেন খোকাকে দুঃখ প্রকাশের আহবান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি কোন ভাবেই জড়িত নন। তৃতীয় একটি পক্ষ তার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ওই ঘটনা ঘটিয়ে তার নাম দিচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, তদন্তে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর সোনারগাঁয়ের জিআর ইন্সটিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে স্কুলে যান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। সভা শেষে স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজের নাম ফলক দেখে ক্ষেপে যান তিনি। ওই সময় তিনি নামফলকে তার নাম নেই কেন প্রশ্ন তুলে নামফলকটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপরেই নামফলকটি ভাঙ্গা দেখা যায়। এনিয়ে সোনারগাঁয়ের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের আ’লীগ নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ঘটনার পর থেকে সোনারগাঁও এবং নারায়ণগঞ্জে সমানতালে আ’লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এম আর কামাল
নারায়ণগঞ্জ

LEAVE A REPLY