নেতাকর্মীদের সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে গুমের চেষ্টা করছে পুলিশ– মীর্জা ফখরুল

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২০
0

উচ্চ আদালতে জামিনে পরেও সাদা পোষাকে পুলি্শ নেতা-কর্মীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ একটু আগে আমি খবর পেলাম, আমাদের উত্তরার তুরাগ থানার সভাপতি-সম্পাদক তাদেরকে গতকাল হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পথে সাদাপোষাকে পুলিশেরা তুলে নিয়ে গেছে, এখনো ওদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এটা অহরহ ঘটছে এখন।”

‘‘ আমি খুব স্পষ্ট করে সরকারকে বলতে চাই যে, অবিলম্বে এদেরকে ফিরিয়ে দেন তাদের পরিবারের কাছে, অবিলম্বে এদেরকে মুক্তি দিন। অন্যথায় জনগনের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে সেই তরঙ্গ কিন্তু আপনাদেরকে টিকিয়ে রাখতে পারবে না।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে বন্দি, আমাদের তরুন সম্ভবনাময় নেতা তিনি নির্যাতিত হয়ে মিথ্যা মামলায় বিদেশে অবস্থান করছেন। আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ৩৫ লক্ষ্যের উপরে, গুম হয়ে গেছেন আমাদের প্রায় ৫‘শ উপরে নেতা-কর্মী এবং নিহত হয়েছেন সহাস্রাধিক এবং গত কয়েকদিন আবারো গুম হয়েছেন ৩/৪ জন।”

‘‘ গতকাল বেলা ১টার দিকে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর সাদা পোষাকে পুলিশ তুরাগ থানা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন পারভেজ তন্ময় ও সহসভাপতি তৌহিদুলি ইসলাম হাসিবকে তুলে নিয়ে যায়। উত্তরার পশ্চিম থানা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মজুমদার মাসুমকে গত রাত সাড়ে ৭টায় উত্তরা ৫ নং সেক্টার থেকে ধরে নিয়ে যায় তার সাদা পোষাকে সদস্যরা, পল্টন থানা যুব দলের যুগ্ম সম্পাদক লিয়ন হক বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এদের কাউকে এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি বলেন, ‘‘ এখন দেশে প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকার আছে বলে মনে হয় না। এই সময়ে সুশাসন দূরের কথা এখানে শাসন বলতে কিছু নেই।”

‘‘ প্রতি পত্র-পত্রিকার তাদের(ক্ষমতাসীন) দুর্নীতির খবর আসছে। ভয়াবহ দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা পাঁচার হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে কোনো খেয়াল নেই, দুই-একটা চুনোপুটিদের ধরে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর বগুড়ায় জন্ম গ্রহন করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের জন্মদিনে দলের পক্ষ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের নেতার জন্মদিনে কোনো উতসব পালন করতে পারছি না। তার এই জন্মদিনে আমরা কেক কাটবো না।”

‘‘ আজকে আমরা তার জন্য দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবন দান করুন এবং তাকে সেই শক্তি দিন যে শক্তি দিয়ে সে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদে্শের জনগনকে মুক্ত করতে। আমাদের মনে রাখতে হবে তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তি জন্য স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে এবং এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের নেতা(তারেক রহমান) ব্যক্তিগত জীবনে অনেক দূঃখকষ্টে আছেন। তার পিতাকে হারিয়েছেন তিনি খুব ছোট বয়সে, মা অন্তরীন। তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো চলে গেছেন এই সরকারের নির্যাতনের কারণে। নিজে নির্বসিত অবস্থায় বাস করছেন। সুতরাং তাকে(তারেক রহমান) সাহস দিতে হবে আমাদেরই।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমাদের এই নেতার ওপরে শুধু বিএনপি নই, সারা দে্শের মানুষ তাঁকিয়ে রয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্ত হবে আরেকবার, তার নেতৃত্বে বাংলাদে্শের মানুষ ফিরে পাবে তাদের অধিকার সেই আশা-ভরসা নিয়ে এদেশের মানুষ তাঁকিয়ে আছে। আমরা সবাই আজকে শপথ নেবো তার জন্মদিনে তার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশের জনগনকে একত্রিত করে, ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এই ভয়াবহ যে দানব যে আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধবংস করে দিচ্ছে তাকে আমরা পরাজিত করব।”

তৃনমূল পর্যায়ে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নানা কার্য্ক্রমের ভুয়সী প্রশংসা করেন বিএনপি মহাসচিব।

LEAVE A REPLY