নোবেল প্রাইজ ও নোবেলের জীবনগল্প

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
0

সোহেল সানি
আকাশের সূর্যের ন্যায় গত এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মানুষের মনের আকাশ আলোকিত করে রেখেছে আরও একটি সূর্য, নাম তার ‘নোবেল প্রাইজ।’
এই কৃত্রিম সূর্যটির স্থপতি একজন মানুষ নোবেল
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রতিভাগুলো সূর্যের ন্যায় প্রতিভাত হন নোবেল প্রাইজের মুকুটটি মাথায় পরে। আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পরপরই তাঁর রেখে যাওয়া একটি ‘ইচ্ছাপত্র’ নিয়ে অনুগত দুতরুণ আবির্ভূত হন। কিন্তু নোবেলের আত্মীয়রা এটার কোন বৈধতা স্বীকার করতে চাইলেন না। প্রচুর পরিমাণ অর্থের ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বেদনা কি করে সহ্য হয়? যেহেতু ‘ইচ্ছাপত্র’টি তৈরিতে কোন আইনজীবীর সাহায্য নেয়া হয়নি, এটা বৈধ নয়। এমন এক পরিস্থিতিতে সুইডেনের রাজাকে এগিয়ে আসতে হলো হস্তক্ষেপ করতে। নোবেলের অন্তিম ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইচ্ছাপত্রটির কার্যকারিতার জন্য রুডলফ লিলিকিস্ট ও রগনার সোলমান গড়ে তুললেন একটি সংস্থা। যার নাম নোবেল ফাউন্ডেশন। ১৮৯৮ সালের ৫ জুন এ সংস্থার আত্মপ্রকাশের পর নোবেলের আত্মীয়রাও তাদের দাবি থেকে সরে দাঁড়াল। তবে একটি মাত্র শর্তে বলা হয়ে ছিল যে, পুরস্কার দেওয়ার জন্য নিয়মবিধি ঠিক রাখার ব্যাপারে আলফ্রেড নোবেলের ভাই রবার্ট নোবেলের পরিবারের মনোনীত একজন প্রতিনিধির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। এরপর সুইডেনের মহামান্য রাজার কাছে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। দাবি মেনে ১৯০০ সালের ২৯ জুন, নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়মবিধি অনুমোদনলাভ করে রাজা কর্তৃক।
নোবেল পুরস্কার নাম রাখা হয় সেই থেকে। নোবেলের সমস্ত সম্পত্তির হিসাব করে সেগুলো বিক্রি এবং বিক্রির টাকাকে মূলধন হিসাবে লাভজনক ব্যবসায় লগ্নি করে, সেই টাকার ওপর আয় থেকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নোবেলের নির্দেশ মতে পাঁচটি পুরস্কার দেয়া হবে শ্রেষ্ঠ অবদানের জন্য। পুরস্কার বিতরণের দিন ঘোষণা হলো ১০ ডিসেম্বর। ওই তারিখে আলফ্রেড নোবেল মৃত্যুবরণ করেন।
১৯০১ সাল থেকে দেওয়া শুরু হয় নোবেল প্রাইজ। পাঁচটি পুরস্কার হলো, পদার্থববিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাববিদ্যা, সাহিত্য ও শান্তি পুরস্কার। ১৯৬৮ সালে নোবেলের ইচ্ছাপত্রের বাইরে অর্থবিজ্ঞানে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে ব্যাংক অফ সুইডেন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। (Bank oF Sweden Prize in Economic Scinces in Memory of Alfred Nobel)
নোবেল পুরস্কারও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। যদিও এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার। সুইডেন এবং নরওয়েতে বসে এ পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ছাড়া প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসছে নোবেল ফাউন্ডেশন।
নোবেল পুরস্কারও বৈদগ্ধ্যের জগতে একটা বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন অনেকে। প্রতিহিংসা, স্বজনপোষণ, স্বার্থপরতার অভিযোগও রয়েছে নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে।
তারপর এর শ্রেষ্ঠত্ব কিন্তু অস্বীকার করেননি স্বয়ং বার্নার্ড শ,। নোবেল পুরস্কার নেবেন না বলেও পরে তিনি নিয়েছিলেন। যদিও তিনি লিখেছেন, ‘I can forgive Alfred Nobel for having invented dynamite but only a fiend in human form could have invented Nobel Prize.” (আলফ্রেড নোবেলকে আমি ডিনামাইট উদ্ভাবনের জন্য ক্ষমা করতে পারি কিন্তু মনুষ্যরূপী একজন শয়তানই নোবেল পুরস্কার উদ্ভাবন করতে পারে।)
১৯৩০ সালে ভারতীয় আচার্য চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমন পদার্থ বিদ্যায় তাঁর যুগান্তকারী আবিস্কার ‘রমন এফেক্ট’র জন্য নোবেল পুরস্কার পান। পুরস্কার গ্রহণত্তোর সম্বর্ধনায় বলেন, I accept (the prize) not on my own behalf, but on behalf of my country and on behalf of those of my great colleagues who are now in jail”.(আমি নিজের তরফ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করছি না, গ্রহণ করছি আমার দেশের তরফ থেকে এবং আমার সেইসব মহান সহকর্মীদের তরফ থেকে যারা এখন জেলে আছেন)
নোবেলের জীবনের গল্প
স্কুল কলেজে অধ্যায়ণ না করায় আলফ্রেড নোবেলের কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী ছিল না। টেলিফোন, ফ্যাক্ম, টেলেক্স, ই-মেইল কিছুরই অস্তিত্ব ছিলনা যে যুগে সেই তখন একুশটি দেশে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন আলফ্রেড নোবেল। ফরাসী লেখক ভিওর যুগো তাঁকে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী বাউন্ডুলে বলে অভিহিত করেন। প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক, শিল্পপতি, বিস্ফোরক ও অস্রনির্মাণ কারখানার মালিক ছাড়াও ছিলেন কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক। বিস্ফোরক ও অস্রনির্মাণ কারখানার মালিক আবার বিশ্বশান্তির জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাইজেরও প্রবর্তক! ঈশ্বর সম্পর্কে অ্যারিস্টটল বলেছেন, এর মূলে আছে ভয়। ভলতেয়ারের ভাষায়, এটা ধূর্ত লোকদের সৃষ্টি বোকা মানুষদের ঠকাবার জন্যে।”
অপরদিকে নোবেল বলেছেন, “এটা বোঝা যাচ্ছে না মানুষ ঈশ্বরের ধারণাটি কেন তৈরি করেছে।” বিশাল শিল্পসাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও নোবেল ছিলেন নিঃসঙ্গ। যদিও একাকীত্ব থেকে মুক্তির জন্য আলফ্রেড নোবেল পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিয়ে বলেন, “ধনী উচ্চশিক্ষিত, পরিণতবয়স্কা, বহুভাষাবিদ একজন মহিলা সেক্রেটারি চাই-যিনি তার দেখভাল করতে পারবেন।” অস্ট্রিয়ার বার্থা কিনস্কী নামে একজন মহিলাকে তিনি সেক্রেটারি রূপে গ্রহণও করেন।
“Lay Down Your Arms” নামক বিখ্যাত গ্রন্থের লেখিকা এই বার্থাই। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে বার্থার প্রভাব এতটাই ছিল যে, নোবেলকে বিশ্বশান্তি প্রচেষ্টার জন্যে শান্তি পুরস্কার প্রবর্তন করেন। ১৯০৫ সালে বার্থা ফন সুটনারকে শান্তি পুরস্কারও দেয়া হয়।
সাহিত্যে পুরস্কার প্রবর্তনও তাঁর মনেরই প্রতিফলন। “মৃত্যুর সওদাগর” নামক নোবেলের কবিতায় ফুটে উঠে রোমান্টিক আদর্শ। ইংরেজীতে লেখা তাঁর কবিতার শিরোনাম “You say I am a riddle”, উৎসর্গ করে ‘একটি সুন্দর মেয়েকে-অত্যন্ত অল্পবয়সে যার কবরের সঙ্গে বিয়ে হয়।
কবিতাটির শুরু এভাবে- You say I am a riddle – it may be
for all of us are riddles unexplained,
Begun in pain, in deeper torture ended.
This breathing clay what business has it here?
নোবেল নিজেকে বর্ণনা করেন-“আমি মনুষ্যবিরোধী তবু অত্যন্ত সদয় উপকারী। আমার মাথার কয়েকটি স্ক্রু ঢিলে অথচ আমি চরম আদর্শবাদী।আমার কাছে খাবারের চেয়েও দর্শনশাস্ত্র হজম করা অনেক সহজ।

“১৯০১ থেকে নোবেল প্রাইজ”
১৯০১ সালে নোবেল প্রাইজ প্রবর্তন হয়। যদিও সে বছর কোন বিজয়ীকে পদক দেয়া যায়নি। যে দুজন শিল্পীর ওপর পদক তৈরির ভার ছিল তাঁরা সময় মতো তা দিতে ব্যর্থ হন।
সুইডেনের ভাস্কর এরিক লিন্ডবার্গ ও নরওয়ের ভাস্কর গুস্তাফ ভিগল্যান্ড যে চারটি পদকের ডিজাইন করেন তা আজও অপরিবর্তিত আছে। প্রতিটি পদকের ওজন প্রায় দুশো গ্রাম ও ব্যাস ছেষট্টি মিলিমিটার। ‘৮০ সাল পর্যন্ত এগুলো ২৩ ক্যারটের সোনা দিয়ে তৈরি হতো। ‘৮১ সাল থেকে পদকগুলো তৈরি হয় ১৮ ক্যারটের সোনার ওপর ২৪ ক্যারটের প্লেটিং করে। সুইডেন থেকে দেওয়া চারটে পদকের সামনের পিঠটা একইরকম।
আলফ্রেড নোবেলের আবক্ষ প্রতিকৃতির সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত নাম ALFR. NOBEL ও ল্যাটিনে NAT-MDCCCXXXIIIOB-MDCCCXCVI, (অর্থাৎ জন্ম-1833 মৃত্যু-1896) খোদাই করা থাকে। তবে নরওয়ে থেকে দেওয়া শান্তিপদকে নোবেলের প্রতিকৃতি আবক্ষ নয়,গলা পর্যন্ত। সুইডিশ পদকগুলোর পেছনে পুরস্কার দেওয়ার বছর, যে সংস্থা পুরস্কার দিচ্ছে সেই সংস্থার প্রতীক ও তার নিচে লেখা থাকে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ও পরিধি বরাবর বৃত্তাকারে লেখা থাকে এই কথাগুলো, “INVENTAS VITAN JUVAT EXCOLUISSE PER ARTES” ইংরেজী তর্জমায় যেটি দাঁড়ায়ঃ
inventions enhance life which is beautified through art, ”
পদার্থ ও রসায়নের পদক দুটোতে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের সংক্ষিপ্ত নাম খোদাই করা থাকে এইভাবেঃ REG, ACAD, SCIENT, SUEC, শারীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিদ্যার পদকে কারোলিনসকা ইনস্টিটিউটের নামঃ REG, UNIVERSITAS MED, CHIR, CAROL এবং সাহিত্যের পদকে, সুইডিশ অ্যাকাডেমির নামঃ ACAD, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির দেওয়া শান্তি পুরস্কারের পদকে নোবেলের মুখের প্রতিকৃতির উল্টোপিঠে খোদাই করা থাকে, মৈত্রীর প্রতীক হিসাবে তিনজন নগ্ন মানুষের প্রতিকৃতি, যারা হাত ধরাধরি করে একটা বন্ধনীর সৃষ্টি করেছে। এতে লেখা থাকে “PRO PACE ET FRATERNITATE GENTIUM” অর্থাৎ “for peace and brotherhood of men”
প্রায় তিন মিলিমিটার পুরু এই পরিধি বরাবর পুরু অংশটিতে লেখা থাকে PRIX NOBEL DE LA PAIX (শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার), ও পুরস্কার দেয়ার বছর ও পুরস্কার বিজয়ীর নাম।
নোবেল ফাউন্ডেশন বিধি অনুযায়ী সাহিত্যের পুরস্কার দেয় সুইডিশ অ্যাকাডেমি, ইচ্ছাপত্রে যাকে “অ্যাকাডেমি ইন স্টকহোম” বলে আলফ্রেড নোবেল উল্লেখ করে যান।
পুরস্কার প্রাপকদের নির্বাচন করার জন্য প্রতিটি সংস্থায় গঠিত হয় নোবেল কমিটি।
শান্তি পুরস্কারের জন্য নরওয়ে পার্লামেন্ট যে কমিটি নির্বাচন করে তার নাম রাখা হয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত নোবেল কমিটি প্রাপকদের নির্বাচন করে। নোবেল ফাউন্ডেশন প্রেসরিলিজের মাধ্যমে পৃথিবীকে জানিয়ে দেয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।
নোবেল ফাউন্ডেশন
নোবেল ফাউন্ডেশনের মূল কাজ হলো টাকার যোগান দেওয়া। এ জন্য কোন লাভজনক ব্যবসায় মূলধন খাটিয়ে বেশি উপার্জন করা যায় সেদিকেই তাদের দৃষ্টি থাকে। নোবেলের ইচ্ছাপত্রের নির্দেশ মেনে চলতে হয় তাদের। পুরস্কার প্রাপকদের বিশাল ব্যায় মেটানো হয় মূলধনের ওপর অর্জিত আয় থেকে।
নোবেলের ইচ্ছাপত্রে
কোন মৃত ব্যক্তির কাজ পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয় না। পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর এবং পুরস্কার বিতরণের আগে যদি কোনো বিজয়ীর মৃত্যু হয়, তাহলে অবশ্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়। কোনো কাজই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেনা যদি নির্বাচকমণ্ডলী মনে করে যে কাজটির চরিত্র নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি কোন কাজই পুরস্কারের জন্ঢ় নির্বাচিত না হয় তবে পুরস্কারের অর্থমূল্য পরের বছরের জন্য তোলা থাকে। যদি পরের বছরও পুরস্কারটি না দেওয়া যায় তবে সেই পরিমাণ অর্থ মূলধনের সঙ্গে যোগ হবে। কোন ব্যক্তিই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না, যদি মনোনয়ন করার অধিকার দেওয়া আছে এমন কেউ তাঁকে লিখিতভাবে মনোনীত না করেন। পুরস্কারের জন্ঢ় কারো ব্যক্তিগত আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাঠানোর অধিকার কাদের দেওয়া হবে সে বিষয়ে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থাই সিদ্ধান্ত নেবে। ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সে বছরের পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পৌঁছতে হবে কর্তৃপক্ষের কাছে। যদি কোন বিজয়ী পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন অথবা পুরস্কারের চেকটি ভাঙিয়ে পরের বছর ১ অক্টোবরের মধ্য টাকা না তুলে নেন তবে সেই পুরস্কারের টাকা মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যদি সম্ভব হয়, ১০ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ছ’মাসের মধ্যে, প্রত্যেক নোবেল লরিয়েটকে তাঁর কাজের ওপর একটি বক্তৃতা দিতে হবে। শান্তি পুরস্কারের জন্য অসলোতে ও বাকীগুলোর জন্য স্টকহোমে বক্তৃতার আয়োজন করা হবে। বিজয়ীদের নির্বাচনের ব্যাপারে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং এর বিরুদ্ধে কোনরকম আপীল গ্রাহ্য করা হবে না। পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে। পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন ঐতিহাসিক গবেষণার প্রয়োজনে, গবেষককে এসব নথিপত্র দেখার অনুমতি দিতে পারেন, তবে পুরস্কারের সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর অন্ততপক্ষে ৫০ বছর অতিক্রান্ত হতে হবে। নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিত্ব করবে একটি বোর্ড, যা অবস্থিত হবে স্টোকহোমে। এই বোর্ডই ফাউন্ডেশনের সমস্ত সম্পত্তির বিষয়ে পরিচালক হবে। বিজয়ীদের পুরস্কারের চেক দেওয়া হবে বোর্ডেরই দায়িত্বে। একমাত্র পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থারই অধিকার থাকবে প্রয়োজনে, ফাউন্ডেশনের নিয়মবিধির পরিবর্তন করতে। নোবেলের উইল মতে পূর্ববর্তী বছরের কাজ বলতে ধরা হবে সাম্প্রতিকতম কাজ অথবা পুরানো কাজ কিন্তু যার গুরুত্ব ইদানীং বোঝা গেছে। পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন তাঁরাই যাঁদের কাজ ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ হিসাবে যদি দুটো কাজকে বেছে নেওয়া হয় তবে পুরস্কারের অর্থ সমানভাগে ভাগ করে দেয়া হবে। যে কাজটি দুজন বা তিনজনে মিলে করেছেন, সেই কাজের জন্য তাঁরা সবাই যৌথভাবে পুরস্কার পাবেন কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই একটি পুরস্কার তিনজনের বেশি ব্যক্তিকে দেওয়া হবে না।
পুরস্কার অনুষ্ঠান
আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে ১০ ডিসেম্বর উদযাপিত হয় ‘নোবেল সপ্তাহ’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সুইডেনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় স্টকহোমের বিশাল কনসার্ট হলে। আর শান্তি পুরস্কারটি দেওয়া হয় অসলো টাউন হলে। স্টকহোমের অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাজার হাত থেকে পুরস্কারের ডিপ্লোমা ও স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন বিজয়ীরা। অনুষ্ঠানের শেষে স্টকহোমের সিটি হলে একটি ব্যাংকোয়েটের আয়োজন করা হয়, যেখানে সপরিবারে পুরস্কারবিজয়ীরা ছাড়াও অন্যান্ঢ় গণ্যমমান্য ব্যক্তির সঙ্গে উপস্থিত থাকেন সুইডেনের মহামান্য রাজা, রানী ও রাজপরিবারের সদস্যবৃন্দ ও পার্লামেন্টের সদস্যরা।
অসলোয় নোবেল শান্তি পুরস্কারটি প্রদান করেন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান। এখানে উপস্থিত থাকেন নরওয়ের মহামান্য রাজা, রানী, সরকার ও পার্লামেন্টের সদস্যরা।
নোবেল পুরস্কার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসাবে গণ্য করা হয়, তাই সুইডেন ও নরওয়ে দুদেশের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও ব্যাংকোয়েটের বিষয়টি প্রতিবছর একটি আন্তর্জাতিক ঘটনার গুরুত্ববহন করে।
উল্লেখ্য, তিন বাঙালি বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন নোবেল পুরস্কার লাভের মাধ্যমে।
সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শান্তিতে ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস এবং অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন।
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

LEAVE A REPLY