পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যা: পিবিআই হেফাজতে সুইপার বিল্লু, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সুলাই লাল

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২০
0

সিলেট নগরীর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে জোরদার হচ্ছে আন্দোলন। প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এবং রাস্তা অবরোধ করছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এই হত্যা ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে। মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের পর তারা নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পিবিআই’র টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরীর কাস্টঘর ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে।

এদিকে বৃহস্পতিবার কবর থেকে লাশ তুলে আবার ময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে বিল্লু দাস নামের এক সুইপারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। শুক্রবার বিকেলে নগরীর কাস্টঘর এলাকার সুইপার কলোনি থেকে কচুয়া লাল বিজয়ের ছেলে বিল্লু দাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

আরেক সুইপার সুলাই লাল বলেন, এর আগে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল পিবিআই।
সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুলাই লাল জানিয়েছেন, ‘ওই রাতে অর্থাৎ গত রোববার রায়হান আহমদকে (৩০) সুস্থ অবস্থায় পুলিশ আমার ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, “ওই রাতে আমি ঘুমিয়েছিলাম। হঠাৎ দরজায় শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখি ছেলেটি (রায়হান) ধাক্কায় দরজার জোড়াতালির ছিটকানি ছুটে গেলে সে ঘরে ঢুকে যায়। আমি মনে মনে ভয় পেলাম। এতো রাতে আমার দরজা ঠেলে কে এলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে ভাই আপনি? তখন দেখলাম ছেলেটি নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, কথাও বলতে পারছে না। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ বাসায় ঢুকে রায়হানকে ধরে। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না এবং আমাকে বলছিল- ‘আমি ছিনতাইকারী না।’ আমিও ভয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।”

সুলাই লাল আরো বলেন, ‘ছেলেটিকে আমার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন শুনি ছেলেটি নাকি ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হলো। তবে এখানে কোনো গণপিটুনি হয় নাই, আমি নিশ্চিত।’

জানা যায়, ঘটনার রাতে ২টা ৯ মিনিটে রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে আনেন এএসআই আশিক এলাহি। এরপর তাকে নেয়া হয় ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরের কক্ষে। সেখানে লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আকবরের সাথে অতি উৎসাহী হয়ে রায়হানকে মারধর করেন কনস্টেবল হারুন ও টিটু। এসময় রায়হানকে মারতে এসআই আকবরকে নিষেধ করেন আশিক এলাহি। কিন্তু তার কথা শোনেননি আকবর। পুলিশ ফাঁড়িতে অমানুষিক নির্যাতন করায় ভোর রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রায়হান। এ অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

LEAVE A REPLY