প্রেসিডিয়াম পদ শূণ্য থাকলেও ঠাঁই হয়নি সংস্কারপন্থী কোন নেতার

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২০
0

সোহেল সানি

প্রেসিডিয়ামের সদস্যসহ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণ নিয়ে রয়েছে কেবলই জল্পনাকল্পনা।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার তিন মেয়াদ পূর্তির পথে আওয়ামী লীগ। দল ও সরকার চলেছে নতুন মুখ দিয়ে। দলও চলেছে নিয়মতান্ত্রিক পথে। নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুসরণ করেই হয় দলীয় কাউন্সিলগুলো। মন্ত্রিসভায় যোগবিয়োগ হলেও দল চলেছে কঠোর নীতিতে।

দলীয় নেতৃত্বে ছাড় দেয়া হয়নি কাউকেই। যারা ২০০৯ সালে নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েন। অর্থাৎ এক যুগ ধরে দলের নির্বাহী নেতৃত্বে ঠাঁই হয়নি ওয়ান ইলেভেনকালীন কথিত সংস্কারপন্থী কোন নেতার। এসব নেতা দুটি আঘাত হজম করেন। প্রথম আঘাতটি ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক বিস্ময়কর মন্ত্রিসভা। যাতে ঠাঁই হয়নি নেতৃস্থানীয় পাঁচ নেতার। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া ছিল কিছুটা বিস্ময়ের এবং কিছুটা বেদনার। কিন্তু এই বেদনা ভুলার আগেই আসে চরম আঘাতটি।

তাহলো দলের প্রেসিডিয়াম থেকে অপসারিত হন আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মতো ডাকসাইটে নেতা। তা ছাড়াও ওয়ার্কিং কমিটি থেকে বাদ পড়েন প্রতিভাবান বহু নেতা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস ও চার সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের বাদ পড়ে। স্বাস্থ্য সম্পাদক ডঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাজমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, নূরুল মজিদ হুমায়ুন, মীর্জা সুলতান রাজা, ওমর আলী, হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ।

ডাঃ মোস্তফা জালাল ও আখম জাহাঙ্গীর ওয়ার্কিং কমিটিতে ফের অবস্থান পেয়েছেন। নাজমা রহমান পরলোকে। এসব অনুঘটকদের নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া ছিল নেতৃত্বের পরীক্ষায় বড় একটা চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই চ্যালেঞ্জে সফলও হন। অনেকে মনে করেন সরকারে থাকার সুবাদে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হয়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগকে ভেঙে বাকশাল হওয়া এবং নেতাদের দল ছাড়ার ঘটনাও ঘটে।

প্রেসিডিয়ামের সদস্যসহ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণ নিয়ে রয়েছে কেবলই জল্পনাকল্পনা।
২০০২ সালের কাউন্সিলের আগে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তৎকালীণ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসেন পল্টু, মোনায়েম সরকার, ফুলু সরকার, সিদ্দিকুর রউফ খান, নুরুল মজিদ হুমায়ুন ও অধ্যাপক ফজলুল হক।

মোজাফফর হোসেন পল্টুকে দীর্ঘদিন পর দলে সক্রিয় করা হয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য করে। নূরুল মজিদ হুমায়ুনকে করা হয়েছে শিল্পমন্ত্রী। ওয়ান ইলেভেনে বিতর্কিত ভুমিকার জন্য সাবের হোসেন চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ শুধু নয় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক সচিবের পদটিও হারাতে হয়। দলের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান বগুড়া-১ আসনে বিজয়ী হলেও বাদ পড়েন নেতৃত্ব থেকে।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মান্নানও ইন্তেকাল করেছেন। তার স্ত্রীকে তার আসনে এমপি করা হয়েছে। ডাকসু’র দু’বারের ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগে যোগ দেন ১৯৯২ সালে। ‘০২ সালের কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদক হন। বর্তমানে তীব্র আওয়ামী লীগ বিরোধী মান্না ২০০৯ সালে নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েন।

উস্কানীমূলক টেলি বক্তব্যের অভিযোগে কারাবরণ করেন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যানারে বগুড়া থেকে নির্বাচন করলেও হেরে যান। আরেক ডাকসু ভিপি আখতারুজ্জামানও সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ হারান ২০০৯ সালে।

‘৯৬ সালে গাজীপুর-৫ আসনে সংসদ সদস্য হলেও পরে ওই আসনে এমপি হয়ে মেহের আফরোজ চুমকি প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। অবশ্য সাংগঠনিক সম্পাদক পদ চলে গেলেও আখতারুজ্জামানকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য পদে রাখা হয়। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে ভিপি হয়েছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের এটাই স্বাধীনতার ডাকসুতে প্রথম কোন বিজয়। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ হারান তিনিও। বিএনপি জোট থেকে এমপি হলেও বলেন “আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সন্তান।”

সাধারণ নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে খুশী। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে যে, বাদপড়া নেতাদের সক্রিয় করলে সরকার ও দল আরো শক্তিশালী হবে।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট