ফিল্মী ষ্টাইলে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষকের গাছপালা কেটে জবর-দখলের চেষ্টা !

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২০
0

খুলনা ব্যুরোঃ
অবসরপ্রাপ্ত একজন কলেজ শিক্ষকের অর্ধশত বছর ক্রয়কৃত ও দখলীয় জমির গাছপালা ফিল্মী স্টাইলে কেটে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে ডুমুরিয়ার গজেন্দ্রপুর সবুজ সংঘ ক্লাবের সদস্যবৃন্দ। এ ঘটনায় আদালতে ১১ জন জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ঐ শিক্ষক। শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত শান্তি শৃংখলা বজার রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গজেন্দ্রপুর মৌজার ৩৩ শতক জমি ১৯৬১ ও ১৯৬৯ সালে ঐ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ধর্মদাস চ্যাটার্জী ও তার পিতার নামে ২টি দলিলে ক্রয় করেন। জমিটি কবলা দলিলমূলে হস্তান্তরের পর অজ্ঞাতকারণে ১৪ শতক জমি শত্রু সম্পত্তিতে পরিণত হয়। অধ্যাপক (অবঃ) ধর্মদাস চ্যাটার্জী বলেন; জমিটি বিধিবর্হিভুতভাবে এনিমি তালিকাভুক্ত হলে অবমুক্তির জন্য ২০১৩ সালে প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ১ ধারা আইনবলে খ, তফসীলের ভূমি মালিকগণের উপর প্রত্যার্পন করেন। ক্রয়ের পর থেকে নাম পত্তনপূর্বক খাজনা ১৪২২ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করে ভোগ দখলে আছি। ঐ জমিতে নির্মিত পাকা বাড়ি ও গাছপালা রয়েছে।
কিন্তু আইনের ফাঁক ফোকরে গজেন্দ্রপুর সবুজ সংঘ ক্লাবের সদস্যরা জমিটির আকৃতি প্রকৃতি পরিবর্তন করার চেষ্টা ও অবৈধভাবে দখল করার পায়তারা করতে থাকে। এ নিয়ে ডুমুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করলে জমিজমার বিষয় হওয়ায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে গজেন্দ্রপুর সবুজ সংঘ ক্লাবের সভাপতি রূপ কুমার ম-ল ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট একটি দরখাস্ত করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ পেয়ে ধর্মদাস চ্যাটার্জী ১০ দিনের সময় প্রার্থনা করে একটি আবেদন করেন। পরবর্তী ধার্যকৃত দিনে ইউপি চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়কে নিয়ে শালিশী বৈঠক বসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান শাকুর উদ্দীন বলেন, গজেন্দ্রপুর সবুজ সংঘের সভাপতি রূপ কুমার ম-ল গত ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে বিরোধীয় জমি নিয়ে আমার কার্যালয়ে একটা অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমি দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ একটি সমাধানের কথা বলেছিলাম। এমনকি ধর্মদাস বাবু এলাকার একজন গুরুজন ব্যক্তি হিসেবে উনার নেতৃত্বে এবং ত্বত্তাবধানে শান্তিপূর্ণভাবে এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ হয় সে বিষয়ে আমি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সহনশীলতার পরিচয় দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শ উপেক্ষা করে গত ৪ অক্টোবর সকালে ক্লাবের সদস্যরা ফিল্মী কায়দায় ঐ জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে গাছপালা কেটে সাবাড় করে দেয় এবং জবর দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ধর্মদাস চ্যাটার্জী ১১ অক্টোবর খুলনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৩ অক্টোবর ১৪৫(১) ধারামতে বিবাদিদের দখল বিষয়ে লিখিত বিবৃতি দাখিলের জন্য বলেন এবং সংশ্লিষ্ট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐ জমিতে শান্তি শৃংখলা বজার রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গজেন্দ্রপুর সবুজ সংঘের সভাপতি রূপ কুমার ম-ল জানান; ওই জমির মালিক পক্ষ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সবুজ সংঘের নামে দান করেছেন। এ ছাড়া জমির একটা বড় অংশ সরকারি খাস। তাই সম্প্রতি ক্লাবের মিটিং এর সিদ্ধান্তে আমরা গাছপালা ও আগাছা সাফ করে বালি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্ত বিষয়টা নিয়ে ধর্মদাস বাবু কর্তৃক একটা মামলা দায়ের করায় তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
এদিকে জমি দান করার বিষয়ে ধর্মদাস চ্যাট্যার্জী এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে জানান।

—-মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী,

LEAVE A REPLY