বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের এয়ারবাস সুবিধা পেলো করোনা রুগী

আপডেট: মে ২৫, ২০২০
0

তুবা আহসান একজন তুর্কি নাগরিক। তিনি বিয়ে করেছিল বাংলাদেশি এক নাগরিককে। কিছুদিন আগে তুবা আহসান এবং তার পরিবারের কয়েক সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং শ্বশুর মারা যায়। এক পর্যায়ে তার বড় বোন টুইট করে, তুবার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশে কোন চিকিৎসা পাচ্ছে না, এমনকি তাদেরকে টেস্টও করা হচ্ছে না।

ওই টুইটের প্রেক্ষিতে তুরস্ক থেকে এয়ার এম্বুলেন্স পাঠান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান। রোববার তুবা, তার স্বামী এবং তিন বছরের দুই জমজ কন্যা ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকাস্থ তুরস্ক দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেছে। এছাড়া তার্কিস এয়ারলাইন্সের কমিনিউকেশন অ্যান্ড ট্রাফিক অফিসার এজাজ কাদরি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, ঘটনা সূত্রপাত হয় আয়শে দিপচিন নামে এক টুইটার ব্যবহারকারীর একটি টুইটের মাধ্যমে। ১৪ মে তিনি একটি টুইট করেন। যেখানে দিপচিন বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে তার শ্বশুর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি বলেন, আমার বোন ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ওখানে কোনও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এমনকি তার টেস্টও করানো যাচ্ছে না। তার তিন বছরের দুই যমজ সন্তানও রয়েছে।

আমরা চাই তাদের তুরস্কে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেয়া হোক। সাথে তিনি বোনের সাথে মেসেজের কথোপকথনের স্ক্রিন শট এবং তার বোনের পরিবারের ছবি শেয়ার করেন। ঢাকায় অবস্থিত তুরস্ক দূতাবাসের নজরে পড়ে এ টুইটটি। ওই তুর্কি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এয়ার এম্বুলেন্স চায়। ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান নিজেই পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন। আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করেন। গতকাল রোববার সকালে তুরস্কের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওই পরবারটিকে নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান এসময় বিমানবন্দরে পরিবারটিকে বিদায় জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও এপ্রিলে সুইডেনে বসবাসরত ৪৭ বছর বয়সী তুর্কি নাগরিক এমরুল্লাহ গুলুসকেন করোনায় আক্রান্ত হলে সেখানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দেশে ফিরিয়ে নেয় তুরস্ক, এছাড়া তুরস্ক সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত নাগরিদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। এসময় তিনি রোগীর সঙ্গেও কথা বলেন যা ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

LEAVE A REPLY